
মো. বেল্লাল নাফিজ ॥
ভোলায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রাথমিকভাবে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন পান দলটির জেলা আহ্বায়ক গোলাম নবী আলমগীর। মনোনয়ন ঘোষণার পর নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা শুরু হলেও হঠাৎ করে দলীয় হাই কমান্ডের সিদ্ধান্তে বিএনপির জোট থেকে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থকে সমর্থনের খবর ছড়িয়ে পড়লে জেলার নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে ভোলা জেলা বিএনপির কার্যালয় থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন নেতাকর্মীরা। মিছিলটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় দলীয় কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয়। এ সময় নেতাকর্মীদের কণ্ঠে ক্ষোভের পাশাপাশি ছিল কান্না ও আবেগের প্রকাশ।
জেলা যুবদল নেতা নাজিম উদ্দিন নিকসন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে উদ্দেশ্যে করে বলেন, আপনি বলেছেন মিছিলের শেষ কর্মীকেও আপনি মূল্যায়ন করবেন। আপনার সেই কথায় আমরা বিএনপি নেতাকর্মীরা অনেক সাহস ও অনুপ্রাণিত হয়ে রাজপথে আন্দোলন সংগ্রাম করেছি। দীর্ঘ ১৭ বছর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে রাজপথে থেকেছি। এই ১৭ বছর আমরা ধানের শীষে ভোট দিতে পারিনি। ধানের শীষে ভোট দেওয়ার অপেক্ষায় ছিলাম। আপনি আমাদেরকে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা করে দিন। শহীদ নুরে আলম ও শহীদ আবদুর রহীমের রক্তের বিনিময়ে হলেও আমাদেরকে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা করে দিন। আমরা ধানের শীষ ছাড়া অনেক কিছুতে ভোট দিতে পারি না। তাই আপনার কাছে অনুরোধ থাকবে আপনি ভোলা-১ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীকে রেখে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করার ব্যবস্থা করবেন।
বিক্ষোভ চলাকালে কান্না জড়িত কণ্ঠে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ স¤পাদক খন্দকার আল-আমিন বলেন, ভোলা জেলা বিএনপির আন্দোলনের বাতিঘর। এই জেলা থেকে ছাত্রদলের সভাপতি নূরে আলম ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আব্দুর রহিম পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন।
তাদের ত্যাগের কথা স্মরণ করে বক্তারা বলেন, “আমরা বড় এতিম। আমাদেরকে নিরাশ করবেন না।” আমাদেরকে অভিভাবক শূন্য করবেন না।
স্বৈরাচার সরকারের আমলে ভোলা জেলা বিএনপির সকল কার্যক্রম গোলাম নবী আলমগীর মিয়ার বাসায় দলীয় কার্যালয় হিসেবে আমরা ব্যবহার করেছি। স্বৈরাচার সরকারের হামলা মামলার সময় এই পরিবারটি আমাদের সবসময় খোঁজ খবর নিতেন। তাকে দলীয় নমিনেশন দেওয়ার পর ভোলার বিএনপি’র নেতাকর্মীদের মাঝে দীর্ঘদিনের কষ্ট ও ত্যাগকে সম্মানিত করেছিলেন। কিন্তু বর্তমানে যেই সিদ্ধান্তের কথা আমরা শুনেছি এটি ভোলার বিএনপির নেতাকর্মীদের ত্যাগ, শ্রম এবং শহীদ নূরে আলম ও শহীদ আব্দুর রহিমের আত্মা চিৎকার করে আপনার কাছে (তারেক রহমান) আবেদন করছি। আপনি আমাদের ধানের শীষে ভোট দেওয়ার সুযোগ করে দিবেন।
স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা লোকমান হোসেন লুকু চৌধুরী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “মাননীয় চেয়ারম্যান, ভোলা বিএনপির নেতাকর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে থেকেছে। এই জেলার মানুষ আপনাদের দিকে তাকিয়ে আছে। আমাদের আশা-ভরসা ভেঙে দেবেন না।” বিক্ষোভে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা দ্রুত এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানান।
বাংলাদেশ সময়: ০:৩২:৫৮ ৪৫৪ বার পঠিত