
স্টাফ রিপোর্টার ॥
জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুপ প্রভাবে দেশের আবহাওয়ার স্বাভাবিক ধারা ক্রমেই বদলে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় চলতি মৌসুমে দ্বীপজেলা ভোলায় ক্রমশই মৃদু শৈত্যপ্রবাহ তীব্র রূপ ধারণ করছে। ঘন কুয়াশা, সূর্যহীন দিন ও হিমেল বাতাসে স্থবির হয়ে পড়েছে উপকূলীয় এ জেলার জনজীবন। বিশেষ করে ছিন্নমূল মানুষেরা খুবই দুরাবস্থায় রয়েছেন।
গত দুই সপ্তাহ ধরে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কুয়াশার চাদরে ঢেকে থাকছে চারপাশ। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। ভোলায় এখন নির্বাচনকালীন পরিবেশ বিরাজ করলেও শহর ও গ্রামাঞ্চলের হাটবাজারে আগের মতো ভিড় নেই। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন দিনমজুর, জেলে ও হতদরিদ্র মানুষ।
বিশেষ করে ভোলার চরাঞ্চল ও বেড়িবাঁধসংলগ্ন নদীবেষ্টিত এলাকাগুলোর পরিস্থিতি ভয়াবহ। ভোলা সদর, চরফ্যাশন, মনপুরা, তজুমদ্দিন, দৌলতখান ও বোরহানউদ্দিন উপজেলার বিভিন্ন চরে বসবাসরত লক্ষাধিক নিুআয়ের মানুষ শীত মোকাবিলায় চরম দুর্ভোগে রয়েছেন। শীতের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ঠান্ডাজনিত রোগের প্রকোপ। আর এ ঠান্ডাজনিত রোগে বেশি অক্রান্ত হচ্ছে শিশুসহ প্রবীণরা।
ভোলা জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নিউমোনিয়া, অ্যাজমা, কোল্ড অ্যালার্জি ও ডায়রিয়াসহ শীতজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে গত কয়েক দিনে কয়েকশ নারী, পুরুষ ও শিশু বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেগুলোতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। আক্রান্তদের মধ্যে শিশু ও প্রবীণদের সংখ্যাই বেশি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, চরাঞ্চলের পরিস্থিতি আরও খারাপ। চরফ্যাশনের ঢালচর, চরকুকরি-মুকরি, চর মাদ্রাজ, চর নিজাম, চর শাহজালাল ও চর কলাতলীসহ বিভিন্ন এলাকার ঝুপড়ি ঘরে উত্তরের হিমেল বাতাস সরাসরি ঢুকে পড়ছে।
ভোলা সদর উপজেলার চরকালীর বাসিন্দা আমেনা বেগমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, দিন আনি দিন খাই। পুরনো একটা সোয়েটার আর পাতলা কাঁথা দিয়েই কোনো রকমে রাত পার করি।
তজুমদ্দিন উপজেলার চর নাসরিনের বাসিন্দা বৃদ্ধা আয়শা খাতুন বলেন, শীত এলে অনেক জায়গায় কম্বল দেওয়া হয়। কিন্তু চরের মানুষ সব সময়ই অবহেলিত। এখন ভোটের সময়, তবুও আমাদের খোঁজ নিতে কেউ আসে না।
ভোলা আবহাওয়া অধিদপ্তরের সিনিয়র পর্যবেক্ষক মো. মাহবুবুর রহমান জানান, গত বৃহ¯পতিবার (১ জানুয়ারি) জেলায় সর্বনিু তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সোমবার (৫ জানুয়ারি) ছিল ১২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল প্রায় ৯০ শতাংশ। আগামী কয়েক দিন এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে বলেও জানান তিনি।
এদিকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম শুরু হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল বলে অভিযোগ চরাঞ্চলবাসীর।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা সৈয়দ মো. আজিম উদ্দিন বলেন, এ বছর প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে ১৩ হাজার পিস শীতবস্ত্র বরাদ্দ পাওয়া গেছে। বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
চরাঞ্চলের বাসিন্দারা দ্রুত পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র, চিকিৎসাসেবা ও জরুরি সরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে তীব্র শীতে এই দুর্ভোগ আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।
বাংলাদেশ সময়: ০:৩০:৩২ ৭৭ বার পঠিত