
লালমোহন প্রতিনিধি ॥
ভোলার লালমোহন উপজেলায় নানা জাতের বরই চাষ করে বাজিমাত করেছেন মোহাম্মদ হোসেন নামে এক চাষি। এ মৌসুমে তার বাগানে সর্বোচ্চ বরইয়ের ফলন হয়েছে। বাড়ির আঙিনায় ১৬০ শতাংশ জমিজুড়ে তার এই বরইয়ের বাগান। এ মৌসুমে অন্তত ১৬ লাখ টাকার বরই বিক্রির আশা করছেন তিনি।
চাষি মোহাম্মদ হোসেন উপজেলার রমাগঞ্জ ইউনিয়নের ৯নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব চরউমেদ এলাকার জালাল আহমেদের ছেলে। বর্তমানে তার বাগানে রয়েছে চার জাতের বরই। বাগানের গাছগুলোতে এখন থোকায় থোকায় ঝুলছে হরেক রকমের বরই।
চাষি হোসেন জানান, গত ৫ বছর আগে এই বাগানটি করেছি। প্রথম দিকে বাড়ির আঙিনার পতিত এক একর জমিতে বরই গাছ লাগাই। বরইয়ের ভালো লাভ হওয়ায় প্রতি বছর জমি এবং বরই গাছ বাড়িয়েছি। বর্তমানে ১৬০ শতাংশ জমিজুড়ে আমার বরই বাগান।
এ বছর দিনাজপুরের হাজী দানেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের নার্সারি থেকে বল সুন্দরি, থাই আপেল কুল, চায়না টক-মিষ্টি কুল ও ভারত সুন্দরি জাতের বরইয়ের চারা এনে রোপণ করেছি। এ বছর অনেকেরই বরইয়ের ফলন ভালো হয়নি। তবে তাদের তুলনায় আমার বাগানের ফলন অনেক ভালো হয়েছে। এরমধ্যে ২ হাজার কেজি চায়না টক-মিষ্টি বরই বিক্রি করেছি। প্রতি কেজি বরই পাইকারি ১৩০ টাকা এবং খুচরা ১৫০ টাকা করে বিক্রি করি। বিভিন্ন এলাকার মানুষ ও পাইকাররা বাগান থেকেই বরই কিনে নেন। বর্তমানে গাছগুলোতে যে পরিমাণ ফলন রয়েছে তাতে মৌসুম শেষে অন্তত ১৬ লাখ টাকার বরই বিক্রি করতে পারবো ইনশাআল্লাহ। এরইমধ্যে আমার বাগান দেখে ও পরামর্শ নিয়ে ১৬ জন চাষি বরইয়ের চাষ শুরু করেছেন।
তিনি আরো জানান, আমার বরই বাগানে চারজন শ্রমিক নিয়মিত কাজ করেন। তাদেরকে দৈনিক ৮০০ টাকা করে মজুরি দিচ্ছি। এই মৌসুমে শ্রমিকদের মজুরি, বাগানের কীটনাশক, সার এবং সেচ খরচসহ সব মিলিয়ে ছয় লাখ টাকার মতো বাগানের পেছনে ব্যয় হবে। তবুও মৌসুম শেষে অন্তত ১০ লাখ টাকা লাভ হবে বলে আশা করছি। অক্টোবরের প্রথম থেকে এ বছর বরই বিক্রি শুরু করেছি, আগামী মার্চ মাস পর্যন্ত বাগান থেকে বরই বিক্রি করতে পারবো। আমার থেকে বরই নিলে ফ্রেশ, ফরমালিন ও বিষমুক্ত ফল পাবেন ক্রেতারা।
হোসেনের বরই বাগানের শ্রমিক মো. আশ্রাফ আলী ও মো. কবির বলেন, আমরা চারজন এই বরই বাগানে নিয়মিত কাজ করি। বাগান মালিক আমাদেরকে ঠিকমতো মজুরি দেন। এতে করে পরিবার-পরিজন নিয়ে আমরা সুন্দরভাবে সংসার চালাতে পারছি।
চাষি হোসেনের প্রতিবেশী মো. খোকন ও মো. হেলাল জানান, প্রতিবেশী হোসেন বরই বাগান করে ভালো সফলতা পেয়েছেন। প্রত্যেক মৌসুমেই তার বাগানে অনেক ভালো ফলন হয়। এসব ফলন বিক্রি করে তিনি ভালো লাভবানও হচ্ছেন। তার বাগানের বরই অনেক সুস্বাদু ও মিষ্টি। কম দামে তার বাগান থেকে আমরা টাটকা বরই কিনতে পারছি। এছাড়া যুবক হোসেনের সফলতা দেখে আমরাও বরই চাষের কথা ভাবছি।
লালমোহন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আবু হাসনাইন বলেন, হোসেন নামে ওই চাষির বরই বাগানটি কয়েকবার পরিদর্শন করেছি। এ বছরও তার বাগানে ফলন খুব ভালো হয়েছে। আমরা নিয়মিত তার খোঁজ-খবর নিচ্ছি। এ ছাড়া বাণিজ্যিকভাবে নতুন করে যারা বরই বাগান করতে আগ্রহী হবেন উপজেলা কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে তাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে।
বাংলাদেশ সময়: ০:৫০:১১ ৮৮ বার পঠিত