
মোঃ আবির হোসাইন, দৌলতখান ॥
ভোলার দৌলতখান উপজেলার মধ্য মেঘনার মাঝে জেগে ওঠা চর নেয়ামতপুর চর দখল নিয়ে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পুলিশসহ ৪ জন আহত হয়েছেন। আহতরা দৌলতখান হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন। রবিবার (৩০ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৬টায় দৌলতখান থানার ওসি জিল্লুর রহমান এতথ্য নিশ্চিত করেছেন।
জানা যায়, ভোলা সদর থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণে মেঘনা নদীর মধ্যে বিরোধপূর্ণ নেয়ামতপুর চরের অবস্থান। এখানে প্রায় ৪ হাজার একর জমি আবাদযোগ্য। আরও ২ হাজার একর জমি আছে গবাদিপশুর চারণভূমি হিসেবে। নেয়ামতপুর চরটি উপজেলার মেদুয়া ইউনিয়নের অংশ।
দৌলতখান নেয়ামতপুর চরের জমির মালিক হাজী সেলিম জানান, ২০০১ সালে সরকার তাদের জমি বন্দবস্ত দেন। জমি দেয়ার পর ওই জমিতে তারা চাষাবাদ করেন। এরপর ফ্যাসিস্ট সরকার আমলে জোরপূর্বক তাদের জমি ফ্যাসিবাদরা নিয়ে যান। ৫ আগষ্টের পর তাদের জমি তারা বুঝে নেন। এরপর থেকে তারা জমিতে চাষাবাদ করেন। এসময় একটি কুচক্রী মহল চাষাবাদে বাধা দেন। তখন ভোলা জেলা পুলিশেন কাছে অস্থায়ী ক্যা¤েপর আবেদন করেন তিনি। আবেদনের প্রেক্ষেতে নেয়ামত চরে একটি অস্থায়ী ক্যা¤প বসানো হয়।
হাজী সেলিমের অভিযোগ, শনিবার সকালে ওই চরের চাষাবাদী জমির ধান কাটতে গেলে চকেট জামালের নেতৃত্বে ৬টি স্পিডবোড নিয়ে তাদের ত্রিমুখী হামলা ও গুলি ছুড়ে। পরে তারা পুলিশ ক্যাম্পে আশ্রয় নেন। এসময় তাদের লোক নাজিম এবং আরমান ওরফে সমস্যা আহত হন। এরমধ্যে একজন গুলিবৃদ্ধ হন। পরে দৌলতখান থানা পুলিশ তাদের উদ্ধার করে দৌলতখানে নিয়ে আসেন। এঘটনায় তিনি মামলা করবেন বলে জানান। নেয়ামত পুর চরের নাজিম জানান, তারা নেয়ামতপুর চরের সাধারণ কৃষক। চাষাবাদ করে তিনি জীবিকা নির্বাহ করেন। শনিবার চরে গেলে তিনি গুলিবৃদ্ধ হন। আরমান ওরফে সমস্যা নামে এক যুবক জানান, তিনি চরে গেলে চকেট জামালের লোকজন তাকে তুলি নিয়ে যায়। ২৪ ঘন্টা তার ওপর অমানিবক নির্যাতন চালায় তারা। পরে পুলিশের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করা হয়।
এব্যাপারে অভিযুক্ত চকেট জামালকে পাওয়া যায়নি। তাই বক্তব্য দেয়া যায়নি।
দৌলতখান থানার ওসি জিল্লুর রহমান জানান, চরদখল নিয়ে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এসময় ইটপাটকেলে দুজন পুলিশ সদস্য আহত হন। তবে এ ঘটনায় কেউ গুলিবৃদ্ধ হননি। পুলিশ গুলির খোসা উদ্ধার করেছেন। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে ২২ জনকে চিহৃতি ও ৩০ জনকে অজ্ঞাত আসামী করে থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্ত চলমান রয়েছে। আসামী গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
বাংলাদেশ সময়: ২৩:৪৬:৪৮ ৩৯৮ বার পঠিত