
স্টাফ রিপোর্টার ॥
ভোলা- বরিশাল সেতুর জন্য পদক্ষেপ নিতে সরকারকে ৭২ ঘণ্টা সময় বেঁধে দিয়ে শাহবাগ মোড় থেকে সরে গেছেন ঢাকায় থাকা ভোলার বাসিন্দারা। শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) বিকাল থেকে সেতুসহ পাঁচদফা দাবিতে প্রায় তিন ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান তারা।
শাহবাগ থানার পরিদর্শক ইব্রাহিম হোসেন সোহেল বলেন, সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তারা সড়ক থেকে সরে যান। এরপর শাহবাগ হয়ে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
এর আগে বিকাল পৌনে ৪টার দিকে তারা শাহবাগে অবস্থান নেওয়ার ফলে চারপাশে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ঘটনাস্থলে বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পুলিশ অবরোধকারীদের সরানোর চেষ্টা করলেও আন্দোলনকারীরা অনড় অবস্থানে ছিলেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, ভোলা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও ভোলা-১ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী আলহাজ্ব গোলাম নবী আলমগীর, বিশিষ্ট সমাজসেবক গোলাম রসুল বেলাল, ইনকিলাব মঞ্চের প্রধান মুখপাত্র ওসমান হাদী, ভোলা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ুন কবির সোপান, এনামুল হক, তরিকুল ইসলাম কায়েদ, সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আসিফ আলতাফ, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাকিবুল ইসলাম নাকীব চৌধুরী, আমরা ভোলাবাসীর সদস্য সচিব মীর মোশারেফ অমি প্রমুখ।
পরে শরীফ নামে আন্দোলনকারীদের একজন সরকারকে ৭২ ঘণ্টা সময় বেঁধে দেন এবং সবাইকে ‘শান্তিপূর্ণভাবে’ সড়ক ছেড়ে দিতে বলেন। এ সময়ের মধ্যে দাবি আদায়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ না নিলে ভোলা থেকে ‘বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ’ করে দেওয়াসহ ‘কঠোর আন্দোলনের’ হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণের দাবিতে বেশ কিছুদিন ধরেই ঢাকায় ও ভোলায় নানান কর্মসূচি পালন করে আসছেন ভোলার বাসিন্দারা। এর ধারাবাহিকতায় বিকালে কয়েকশ মানুষ ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নেন। সেতু নির্মাণের দাবির পাশাপাশি ভোলায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণ ও গ্যাস সংযোগ প্রদানের দাবিও তুলে ধরেন তারা।
আন্দোলনকারীরা এ সময় ‘সেতু, সেতু, সেতু চাই, ভোলা-বরিশাল সেতু চাই’, ‘দাবি মোদের একটাই, ভোলা-বরিশাল সেতু চাই’, ‘আমার গ্যাস তুমি নাও, বিনিময়ে কী দাও’সহ নানা শ্লোগান দেন।
ভোলাবাসীর সঙ্গে ‘রাষ্ট্রীয় বৈষম্য’ হচ্ছে দাবি করে আন্দোলনকারীরা বলছেন, ভোলার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ না থাকায় অনেক বাসিন্দা চিকিৎসার অভাবে মারা যাচ্ছে। দাবি না মানলে কঠোর কর্মসূচি হুঁশিয়ারি দেন তারা।

গেল ১৪ নভেম্বর ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণসহ ৫ দাবিতে ভোলায় সফররত অন্তর্বর্তী সরকারের তিনজন উপদেষ্টাকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবরুদ্ধ রেখে তাদের গাড়ির সামনে শুয়ে বিক্ষোভ দেখায় একদল শিক্ষার্থী। বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান এবং বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিনকে সেদিন অন্তত ২০ মিনিট অবরুদ্ধ করেন রাখেন ‘আমরা ভোলাবাসী’ সংগঠনের ব্যানারে আন্দোলনকারীরা।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, ভোলাবাসীর পাঁচ দফা দাবি নিয়ে সম্প্রতি প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী শেখ মঈন উদ্দীন এবং বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের বৈঠক হয়। বৈঠকে আগামী ডিসেম্বরে ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণ কাজ শুরু করার ঘোষণা দেওয়া হয়।
কিন্তু গত ১৪ নভেম্বর উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান বলেন, এখনো ভোলা-বরিশাল সেতুর নকশার কাজই শুরু হয়নি, এটি নীতিগত সিদ্ধান্তে আটকে আছে। তার এ কথার প্রতিবাদেই ক্ষিপ্ত হয়ে তিন উপদেষ্টাকে অবরুদ্ধ করেন আন্দোলনকারীরা।

সেদিনই ভোলা থেকে ঢাকার সেতু ভবন অভিমুখে লংমার্চে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা তেঁতুলিয়া নদী সাঁতরে পাড়ি দিয়ে বরিশালে পৌঁছান। সেসময় টানা সাঁতার কেটে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন এক শিক্ষার্থী।
আন্দোলনকারীদের পাঁচ দাবি হল- ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণের দৃশ্যমান অগ্রগতি, ভোলার ঘরে ঘরে পাইপলাইনে গ্যাস সংযোগ, গ্যাসভিত্তিক শিল্প-কলকারখানা স্থাপন, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ।
বাংলাদেশ সময়: ০:৫৭:৫৮ ২১৭ বার পঠিত