ভোলায় ঠান্ডাজনিত রোগে শিশুদের বিপর্যস্ত অবস্থা, দুই শিশুর মৃত্যু

প্রচ্ছদ » জেলা » ভোলায় ঠান্ডাজনিত রোগে শিশুদের বিপর্যস্ত অবস্থা, দুই শিশুর মৃত্যু
শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫



---

ইব্রাহিম আকতার আকাশ ॥

ভোলায় শীতের শুরুতেই ঠান্ডাজনিত রোগ নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ার প্রকোপ বেড়েছে ভয়াবহভাবে। বিশেষ করে শিশু রোগীদের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে সরকারি হাসপাতালগুলো। প্রতিদিনই নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত শিশুকে নিয়ে ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভিড় করছেন অভিভাবকরা। এতে বেড সংকট দেখা দেওয়ায় এক বেডেই দুই থেকে তিনজন শিশুকে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দিতে বাধ্য হচ্ছেন নার্স ও স্টাফরা।

ভোলা সিভিল সার্জন অফিসের তথ্যমতে, গেল ২৪ ঘণ্টায় ভোলা সদর হাসপাতালে নিউমোনিয়ায় ভর্তি হয়েছেন ৯জন ও ডায়রিয়ায় ২২ জন। জেলার বিভিন্ন হাসপাতাল মিলিয়ে একই সময়ে নিউমোনিয়া রোগীর সংখ্যা ২৬ জন এবং ডায়রিয়ায় ৬৩ জন। গেল ৭ দিনে জেলায় নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন ২১৪ জন ও ডায়রিয়ায় ৪৯৫ জন। এর মধ্যে গত ৭ দিনে নিউমোনিয়ায় ১ শিশু এবং গত ১৫ দিনে ডায়রিয়ায় ১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

---

সরেজমিনে দেখা গেছে, শিশু ওয়ার্ডের করিডোরের মেঝেতেই বিছানা পেতে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে ছোট্ট রোগীদের। প্রতিটি বেডেই একাধিক শিশু, স্বজনদের জায়গা না পেয়ে দাড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। স্বজনদের অভিযোগ, এমন পরিবেশে চিকিৎসা সেবা নেওয়া অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে উঠেছে।

রোগীর স্বজনরা অভিযোগ করে বলেন, সরকারি হাসপাতালে সেবা ঠিকভাবে মিলছে না। ক্যানুলা, সিরিঞ্জ, নেবুলাইজার মাস্কসহ বেশিরভাগ সরঞ্জামই বাইরে থেকে কিনে আনতে হচ্ছে। এতে চিকিৎসা ব্যয়ও বেড়ে যাচ্ছে।

শিবপুর ইউনিয়নের কোহিনূর বেগম বলেন, “একই বেডে দুই শিশু নিয়ে থাকা খুব কষ্টকর। বেশিরভাগ ঔষধই বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে।”

মমতাজ নামের আরেকজন বলেন, “বেডের নিচে ছাড়পোকার উপদ্রব ভয়াবহ। খাবার ও কাপড়ে ঢুকে পড়ে। শিশুর কানে ঢুকে যাওয়ার ভয়ে ঘুমাতে পারি না।”

---

দৌলতখানের মেহেদী হাসান জানান, “সামান্য শ্বাসকষ্টেও বরিশাল রেফার্ড করা হয়। নদীপথে শিশু নিয়ে যাওয়া খুবই কষ্টকর।”

ভোলা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. তৈয়বুর রহমান বলেন, “শিশু রোগীর চাপ স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি। বেড সংকুলান না হওয়ায় মেঝেতে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। শীতে শিশুদের ঠান্ডাজনিত রোগ বাড়ে, তাই অভিভাবকদের সচেতন হওয়া জরুরি।”

ভোলার সিভিল সার্জন ডা. মনিরুল ইসলাম বলেন, “শীতে রোটা ভাইরাসজনিত ডায়রিয়া বেড়ে যায়। তাই খাবার ও পানির বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। হাসপাতালে সরঞ্জাম আছে, তবে রোগীর চাপ বেশি হওয়ায় কিছু ক্ষেত্রে সময়মতো সরবরাহে সমস্যা দেখা দেয়। দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।”

---

শীতের প্রভাবে দ্রুত বেড়ে যাওয়া শিশুদের নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়া রোগের কারণে ভোলা জেলার হাসপাতালগুলোতে তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। চিকিৎসা সেবার মান বজায় রাখা এবং অতিরিক্ত বেড বাড়ানোর পাশাপাশি অভিভাবকদের সচেতনতা এখন সময়ের দাবি।

বাংলাদেশ সময়: ০:৫৩:৫৫   ১০৪ বার পঠিত  







পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

জেলা’র আরও খবর


কুকরি-মুকরি চরে ছুটছেন পর্যটক, উপকূলের অর্থনীতিতে পরিবর্তন
৯৫ দিন পর মুক্তি পেলেন ভারতের কারাগারে থাকা ভোলার ১৯ জেলে
ভোলা টেলিভিশন জার্নালিষ্ট এ্যাসোসিয়শনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত
ভোলায় এনসিপির নবগঠিত কমিটি স্থগিতের দাবি
ভোলায় পাকহানাদার মুক্ত দিবস পালিত
নিজাম-হাসিনা ফাউন্ডেশন হাসপাতালের জেনারেল বিভাগে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান
ভোলা সদর উপজেলা বিএনপি কমিটির কার্যক্রম স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার
ভোলায় জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের কমিটিতে আহবায়ক কিরন ও সদস্য সচিব আমিন খান
নদী ভাঙনে সবই বিলীন সিরাজের
ভোলায় ৮ দফা দাবিতে দলিত জনগোষ্ঠীর মানববন্ধন



আর্কাইভ