
মোঃ বিল্লাল হোসেন।।
জীবন জীবিকার তাগিদে সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে ভোলার লালমোহন উপজেলার ১৩ জেলে নিখোঁজ রয়েছে ১৭ দিন ধরে। নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধান না-পেয়ে পরিবারে চলছে আহাজারি। নিহতরা হলেন ধলিকানগর ইউনিয়নের মোঃ মাকসুদুর রহমান, মেঃ নাছির, মোঃ ফারুক,মোঃ শামিম, মোঃ সজীব, মোঃ মাকসুদ, মোঃ আলম, মোঃ জাহাঙ্গীর, মোঃ খোকন, মোঃ সাব্বির, মোঃ হেলাল, মোঃ ফারুক, আবদুল মালেক।
নিখোঁজের স্বজনরা জানিয়েছে, ১০ নভেম্বর তারা সাগরে মাছ ধরতে যেতে বাড়ি থেকে তারা রওনা করে চরফ্যাশনের সামরাজ ঘাটে পৌঁছে। ১১ তারিখে সেখান থেকে মায়ের দোয়া নামক ট্রলারে (বোটে) সাগরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। সাগরে ৪-৫ দিন থাকা লাগে বিধায় তারা ৪-৫ দিনের খাবার নিয়ে যায়। এগারো তারিখের ৩-৪ দিন পর পরিবারের সাথে নিখোঁজদের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। যোগাযোগ না হলেও প্রথমে পরিবারের সদস্যরা ভেবেছে কোন কারনে মোবাইল বন্ধ বা ফিরতে সময় লাগছে। কিন্তু তার কয়েকদিন পর সময়টা অসাভাবিক ও যোগাযোগ না থাকায় কোন দুর্ঘটনা ঘটেছে মনে করে তারা সাধারণ ডায়েরি করে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কাছে সহযোগিতা চেয়ে বেড়াচ্ছে। এর পর থেকে জীবন জীবিকার তাগিদে জীবন যুদ্ধে উত্তাল ও রাক্ষসী সাগরে মাছ ধরতে যাওয়া সেই ১৩ জন জেলে আর ফিরে আসেনি। তারা বেঁচে আছে নাকি অতল সাগর গভীরে চিরতরে হাড়িয়ে গেছে জানােনা কেউ। ১৭দিনেও একমাত্র উপার্জনকারিদের খোঁজ না পেয়ে পরিবার গুলোতে চলছে আহাজারি। জীবিত হউক আর মৃত হউক এক নজর দেখতে চায় স্বজনরা।
সাগর থেকে ফিরে এসে স্ত্রীকে বাবার বাড়ি নিয়ে যাওয়ার কথা বলেছিলেন হেলাল। সন্তান সম্ভাবনা খোকনের স্ত্রী এবং সদ্য বিবাহিত সাব্বিরের স্ত্রী’র নাওয়া খাওয়া বন্ধ, কি করবে কিছুই বুঝে উঠতে পারছেনা, চোখে মুখে রিমিঝিমি দেখছে। মায়ের বুকভাঙা কান্নায় নির্বিকার হয়ে যেনো কন্ঠরোধ হয়ে আসছে। মানষিক প্রতিবন্ধি সন্তান এদিক ওদিক ফেলফেলিয়ে তাকাচ্ছে কিন্তু বুঝে উঠতে পারছেনা তার বাবার ভাগ্যে কি ঘটেছিলো।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ শাহ আজিজ বলছেন, নিখোঁজদের খুজে পেতে নৌবাহিনী পক্ষ থেকেও অনুসন্ধানী কার্যক্রম চালু রাখার ব্যাপারে প্রতিশ্রতি দেওয়া হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে।
এদিকে অতিদ্রুত হেলিকপ্টারে সাগরে ও ভারতের সাগর সীমানায় নিখোঁজদের খোঁজার জন্য সরকারের কাছে স্বজন ও এলাকাবাসী দাবী জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ সময়: ২৩:২৪:৩২ ১১৭ বার পঠিত