
আজকের ভোলা রিপোর্ট ॥
‘দ্বীপজেলা ভোলার জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করে আমি আনন্দিত। গত ক’দিন যাবত ভোলার বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের আন্তরিকতা ও আতিথেয়তায় আমি মুগ্ধ। আমি মনে করি ভোলার যেসব সমস্যা রয়েছে বিশেষ করে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পর্যটন, গ্যাস ভিত্তিক শিল্পায়ন ও মূল ভূখন্ডের সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে আমি সর্বশক্তি দিয়ে ভোলার একজন হয়ে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাব।’ ভোলার জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের ৬ দিনের মাথায় দৈনিক আজকের ভোলার সঙ্গে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ডাঃ শামীম রহমান এসব কথা বলেন। সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছেন দৈনিক আজকের ভোলার সম্পাদক মুহাম্মদ শওকাত হোসেন। সাথে ছিলেন, স্টাফ রিপোর্টার মো. বেল্লাল নাফিজ।
প্রশ্ন ছিল ভোলা এসে এই ক’টি দিন থেকে আপনার অনুভূতি কি? তিনি বললেন এর আগে আমি কখনো ভোলায় আসিনি, আসার আগে কিছুটা দ্বিধা সংকোচ থাকলেও ভোলা এসে আমি মুগ্ধ ও সন্তুষ্ট। বিশেষ করে গত পাঁচ দিন ভোলাবাসীর যে আন্তরিকতা ও আতিথেয়তা আমি দেখেছি তাতে এরা আমার আপনজন হয়ে গেছে। আর আমিও এদের আপনজন হওয়ার জন্য চেষ্টা করছি।
ভোলার কোন সমস্যাগুলো প্রতি আপনি বিশেষভাবে গুরুত্ব দেবেন? এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, একটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপ হিসেবে ভোলাবাসীর স্বাস্থ্য সেবার মান উন্নয়ন নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলে আমি মনে করি। আমি আমার সময়কালে হাসপাতালের চিকিৎসার মান উন্নয়নসহ সরকারি ও বেসরকারি খাতে স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে আন্তরিক প্রচেষ্টা চালাবো। তিনি বলেন, স্মার্ট বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন প্রয়োজন। দ্বীপজেলার ভবিষ্যৎ বংশধরদের মানসম্মত শিক্ষা প্রদান এবং প্রকৃত শিক্ষিত হিসেবে গড়ে তোলার জন্য আমার সাধ্য অনুযায়ী চেষ্টা করব। তিনি বলেন, প্রকৃতির এক অনন্য অবদান পলিমাটির দেশ ভোলা জেলা। এখানে কুকরী-মুকরী, ঢালচরসহ নদী সাগর বনভূমি কেন্দ্রীক পর্যটনের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। ভোলাকে পর্যটনের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে আমার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবো। তিনি আরো বলেন, অভ্যন্তরীণ সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার পাশাপাশি মূল ভূখন্ডের সাথে ভোলা বরিশাল ব্রিজের বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আমার সাধ্যানুযায়ী প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

তিনি বলেন, চারদিকে নদী সাগর বেষ্টিত ভোলায় রয়েছে বিশাল মৎস্য সম্পদ। জেলেদের প্রশিক্ষণসহ মৎস্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, রপ্তানি এবং বৃহত্তর বাজারে উপস্থাপনের জন্য আমার আন্তরিক প্রচেষ্টা থাকবে।
তিনি কিভাবে এসব কাজ করবেন এ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে জেলা প্রশাসক ডাঃ শামীম রহমান বলেন, আমি প্রথমত ভোলার সমস্যাগুলো এবং সামগ্রিক উন্নয়নে আমার কি করণীয় আছে সেটা নির্ধারণ করে নেব। এখন আমি কর্মসূত্রে ভোলার একজন মানুষ।
ভোলাবাসীর একজন হয়েই আমি ভোলার সমস্যা সমূহ সমাধানে আমার সামগ্রিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাব। এখানকার প্রতিটি মানুষ যাতে তাদের জন্য সরকারের যে সমস্ত সেবা আছে সেই সব সেবা, ন্যায়বিচার এবং প্রশাসনিক সহায়তা পেতে পারে সে লক্ষ্যে কাজ করে যাব। এক কথায় আইনের যথাযথ প্রয়োগ এবং মানবিক সেবা যাতে সাধারণ মানুষ পেতে পারে সেই লক্ষ্যে আমি প্রচেষ্টা চালাবো।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি এখন তাদেরই একজন। ভোলার প্রতিটি মানুষ আমার কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমি সকলের সহযোগিতা চাই এবং ভোলার সাংবাদিক নাগরিক সমাজ ও বিভিন্ন সামাজিক সংস্থাসহ সবাই আমাকে সহযোগিতা করবে এটাই আমার তাদের কাছ থেকে চাওয়া। আমি ভোলার সকল মানুষের প্রতি আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছি।

জেলা প্রশাসক ডাঃ শামীম রহমানের সংক্ষিপ্ত পরিচয়ঃ
ভোলার নবাগত জেলা প্রশাসক মানিকগঞ্জ জেলার দৌলতপুর উপজেলায় ১৯৮৩ সালে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মোঃ বদিয়ার রহমান, মাতা ফিরোজা রহমান। ডাঃ শামীম রহমান ১৯৯৮ সালে প্রথম বিভাগে এসএসসি, ২০০০ সালে নটেরডেম বিজ্ঞান বিভাগ থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে এইচএসসি, পরে সিলেট এমএজি ওসমানি মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএইচ ও পাবলিক এড বিষয়ে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ২৯ তম বিসিএস উত্তীর্ণ হয়ে ২০১১ সালে সিলেটে প্রভিশনার হিসেবে যোগদান করেন। ম্যাজিস্ট্রেট, এসিল্যান্ড ও ইউএনও হিসেবে তিনি সিলেট ও ময়মনসিংহ জেলার গফরগাও উপজেলায় এবং ডিডিএলজি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও তিনি দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রনালয়সহ সর্বশেষ মন্ত্রীপরিষদ বিভাগে উপসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। গত ১৮ই নভেম্বর তিনি ভোলার জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি একজন সদালাপী, ভদ্র ও মেধাবী কর্মকর্তা হিসেবে সকলের কাছে সুপরিচিত।
বাংলাদেশ সময়: ০:০৫:১৮ ১৮৪ বার পঠিত