
স্টাফ রিপোর্টার ॥
চরফ্যাশন উপজেলার আবদুল্লাহপুর ইউনিয়নের ভুয়া যুবদল নেতা পরিচয় দেওয়া নোমান ফকির ও আলামির বকসির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, নিরীহ মানুষদের হামলা ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় অসহায় এক ব্যক্তি নোমান ফকিরের বিরুদ্ধে কিছুদিন পূর্বে ২০ হাজার টাকা চাঁদা নেওয়া ও নির্মমভাবে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ করেছেন। ভুক্তভোগীর দাবি, এ ঘটনার সময় কেউ তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসতে পারেনি।
চাঁদা আদায়ের অভিযোগে একই এলাকার ভুক্তভোগী রতন বাঘা জানান, আবদুল্লাহপুর ৫নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় রাতের মধ্যে জোরপূর্বক তার কাছ থেকে ২০,০০০ টাকা ‘চাঁদা’ নিয়েছেন। তার ভাষ্য “অসহায় অবস্থায় আমাকে চাঁদা দিতে বাধ্য করে। তার কাছে থেকে নোমান ফকিরই অর্থ নিয়েছেন। ঘটনাটির সময় বেশ কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীও ছিলেন। কিন্তু ভয়ে মূখ খুলতে পারেননি কেউ। প্রত্যক্ষদর্শীরা দাবি করেন, আলামিন বকশি ও নোমান ফকির দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় গাঁজা ও ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে সংযুক্ত এবং মাঝে মাঝে ওপেন জুয়ার আসর বসান। এছাড়াও বিভিন্নভাবে ব্লাকমেইলিং করে ইতোমধ্যে একাধিক সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা চাঁদা নেওয়ারও অভিযোগ আছে তাদের বিরুদ্ধে। তাদের নেতৃত্বে এলাকায় নানা অনিয়ম জুলুম ও সাধারণ লোকদেরকে হয়রানি করে চাঁদা উত্তোলনের দাবি স্থানীয়দের। শিক্ষিত সমাজকে ধ্বংস করার মতো কর্মকা- চালানো হচ্ছে। যা আলামিন বকশি ও নোমান ফকিরের নৈপত্যে হচ্ছে।
এছাড়াও অভিযোগ উঠে এসেছে যে, আলামিন বকশি ও নোমান ফকির নিজেকে যুবদল নেতা পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন। তবে চরফ্যাশন উপজেলার যুবদলের সিনিয়র একাধিক নেতারা জানান,“আলামিন বকশি ও নোমান ফকির নামে কাউকে তারা চিনেন না। তাদের বিরুদ্ধে যে ভিডিও ও অভিযোগ এসেছে তা সংগঠনের সঙ্গে সসমৎর্কহীন।”
এ বিষয়ে ভুক্তভোগীসহ স্থানীয়রা জানান, “অভিযুক্তরা সবসময় সরকার দলীয় লোক পরিচয়ে এলাকায় অপকর্ম করে থাকেন, যা বর্তমানে তাদের কর্মকা-ে বিএনপি দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণè হচ্ছে।”
চরফ্যাশন উপজেলার ছাত্রদলের সাবেক সদস্য জাহিদুল ইসলাম রকি বলেন, “আমি একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে আমার অবস্থান থেকে অন্যায়ের প্রতিবাদ করছি। তাদের অপকর্মে এলাকার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত। শিক্ষিত সমাজ ও তরুণ প্রজন্মকে ধ্বংস করে যারা, তাদের কোনো রাজনৈতিক দলে থাকার জায়গা নেই।”
স্থানীয়রা দাবি করে বলেন, “চাঁদাবাজি, জুয়া ও মাদকের সঙ্গে যারাই যুক্ত থাকুক, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।”
বাংলাদেশ সময়: ২৩:৫৮:২৪ ১৩৪ বার পঠিত