
স্টাফ রিপোর্টার ॥
শীত এসে গেছে। এই শীতে তৈরি হয় নানা ধরনের মিষ্টি জাতীয় মুখরোচক খাবার। তার মধ্যে অন্যতম জিলাপি। সুস্বাদু এ খাবারটি গ্রামাঞ্চলের অত্যন্ত জনপ্রিয়। যে কারণে শীতের দিনে এ খাবারটির চাহিদাও অনেক। সবার কাছে পরিচিত জিলাপি স্বাদের যেন কমতি নেই। শীতের সময় হাট-বাজারগুলোতে আড়াই প্যাঁচের জিলাপির দোকানগুলোতে বেচাকেনার ধুম পড়ে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত খোলা থাকে জিলাপির দোকানগুলো। তবে সবচেয়ে বেশি বেচাকেনা হয় প্রতিদিন বিকেল থেকে রাত ৮টার মধ্যে।
শীতের আমেজ বইতে শুরু করার সঙ্গে সঙ্গে ভোলার লালমোহন উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে এরইমধ্যে জমে উঠেছে জিলাপি বিক্রি। রসালো এই জিলাপি প্রতি কেজি ১২০ টাকা দরে বিক্রি করা হয়। যা তৈরি করা হয় চালের গুড়া, চিনি বা আখের গুড় দিয়ে। বর্তমানে উপজেলার হাট-বাজারগুলোতে সাধারণত দুই ধরনের জিলাপি দেখা যাচ্ছে। যার মধ্যে আখের গুড় ও চিনির তৈরি জিলাপি রয়েছে। তবে দুই ধরনের জিলাপির দাম একই। এসব জিলাপিতে বিক্রি করে বিক্রেতাদের জোগান হচ্ছে জীবিকা আর ক্রেতাদের মিটছে শখ।
লালমোহন পৌরশহরে শীতকে কেন্দ্র করে বসেছে বেশ কয়েকটি জিলাপির দোকান। পৌরশহরের মহাজন পট্টির জিলাপি বিক্রেতা মো. আওলাদ হোসেন জানান, দুই বছর ধরে শীতের মৌসুমে জিলাপি বিক্রি করছি। অন্য সময় অটোরিকশা চালাই। শীতের এই মৌসুমে মানুষজনের কাছে জিলাপির চাহিদা অনেক বেশি। তাই শীতের এ সময় প্রতিদিন সকাল ৭ টা থেকে রাত ১২ টা পর্যন্ত দোকান খোলা রেখে জিলাপি বিক্রি করি।
তিনি আরো জানান, হাটবারে বিক্রি ভালো হয়। পৌরসভায় সপ্তাহে দুই দিন হাট থাকে। ওই দুইদিন বিক্রি ভালো হয়। হাটের দিন দুই মনের অধিক জিলাপি বিক্রি করতে পারি। সব খরচ বাদে দোকান থেকে গড়ে প্রতিদিন এক হাজার টাকার মতো লাভ হয়। যা দিয়েই সংসার চলে।
মহাজনপট্টির একটি জিলাপি দোকানের কারিগর মো. শফিজল ইসলাম বলেন, গত ৪০ বছর ধরে শীতের মৌসুমে জিলাপি তৈরির কাজ করছি। জিলাপি বানিয়ে প্রতিদিন সাতশত টাকা মজুরি পাই। এই আয় দিয়েই শীতের মৌসুমে সংসার চালাই। বছরের অন্য সময় ঢাকায় গিয়ে আইসক্রিম বিক্রি করি।
মোসা. সালমা বেগম ও হাফসা আক্তার নামে দুই জিলাপি ক্রেতা জানান, বাজারে এসেছি অন্য কাজে। এসে দেখি গরম গরম জিলাপি তৈরি করে বিক্রি করা হচ্ছে। শীতে জিলাপি খেতে অনেক স্বাদ। তাই বাসার জন্য এক কেজি করে দুই কেজি জিলাপি কিনেছি। বাচ্চারাও জিলাপি অনেক পছন্দ করে। মূলত তাদেরকে উদ্দেশ্য করেই এই জিলাপি কেনা।
লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেকসের মেডিকেল অফিসার (ইউনানি) ডা. মো. ইউসুফ হোসেন বলেন, জিলাপিতে প্রচুর পরিমাণে চিনি-গুড়, ময়দা এবং অতিরিক্ত তেল থাকে যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এটি রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়িয়ে দেয় এবং অন্যান্য দীর্ঘ স্থায়ী রোগের কারণ হতে পারে। অস্বাস্থ্যকর জিলাপি হজমের সমস্যা, দাঁতের সমস্যা ও পেটের দীর্ঘ মেয়াদি পিড়াও তৈরি করতে পারে। তবে জিলাপির উপকারিতাও রয়েছে। যার মধ্যে জন্ডিস নিয়ন্ত্রণ, মাইগ্রেনের ব্যথা উপশম এবং মানসিক চাপ কমানো। এছাড়া নিয়মিত জিলাপি খেলে ওজনও বৃদ্ধি পায়। তারপরও সীমিত পরিমাণে সবার জিলাপি খাওয়া উচিত বলে আমি মনে করছি।
বাংলাদেশ সময়: ২২:৪৮:৪৫ ১৩২ বার পঠিত