
বোরহানউদ্দিন প্রতিনিধি ॥
ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার সাচড়া ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডে এক গৃহবধূর রহস্যজনকভাবে উধাও হয়ে যাওয়া নিয়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘর থেকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকারসহ গৃহবধূ উধাও হওয়ার পর এখন উল্টো স্বামীকে ফাঁসানোর পাঁয়তারা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগকারী স্বামী আবদুল মান্নান মহিরউদ্দিন হাওলাদার, মৃত জালাল আহমেদের ছেলে, জানান ‘তার স্ত্রী সাজেদা বেগম এর সঙ্গে ১৬ বছর আগে পারিবারিকভাবে বিবাহ হয়। দীর্ঘ সংসার জীবনে তাদের কোনো সন্তান না থাকলেও দা¤পত্য জীবনে ভালোবাসার ঘাটতি ছিল না। সংসারের প্রয়োজনে দু’জনেই ঢাকায় চাকরি করতেন।
মান্নান জানান, গত ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে তিনি স্ত্রীকে নিয়ে গ্রামের বাড়ি সাচড়া ইউনিয়নে ফিরে আসেন। কিছুদিন পর, ১৩ সেপ্টেম্বর দুপুরে লালমোহন থেকে তার শাশুড়ি আসেন। দুপুরে কাজ শেষে বাসায় ফিরে তিনি দেখেন, স্ত্রী সাজেদা বেগম বাসায় নেই। ঘর তল্লাশি করে দেখতে পান বাড়ির চাবি বিছানার ওপরে রাখা এবং ঘর থেকে প্রায় ৩ লাখ টাকা, স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য মূল্যবান মালামাল উধাও।
পরবর্তীতে মান্নান তার বড় ভাই হাবিবউল্লাহ হাওলাদার-কে বিষয়টি জানালে তারা দু’জন মোটরসাইকেলে করে দ্রুত স্থানীয় বাসস্ট্যান্ডে খোঁজখবর করেন, কিন্তু কোনো সন্ধান পাননি। পরে তারা লালমোহন উপজেলার জসিম নামের এক ব্যক্তির কাছে যান, যিনি তাদের ঘটক হিসেবে বিবাহের মধ্যস্থতা করেছিলেন।
মান্নানের অভিযোগ- উক্ত ঘটনার পর থেকে তার স্ত্রী সাজেদা বেগম বিভিন্নভাবে তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে উল্টো মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা করছেন।
তিনি প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অর্থ ও স্বর্ণালংকার ফেরতসহ প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।
মান্নানের ভাই হাবিবউল্লাহ হাওলাদার বলেন, আমার জানামতে তাদের দা¤পত্য জীবন সুখেই ছিল তাদের কোন বিরোধ নেই যদি কিছু ঘটতো আমাদের জানালে আমরা সমাধান করতাম। কিন্তু এভাবে চলে যাওয়া কাম্য নয়। আমার ভাই আমাকে সাথে সাথে জানান আমি সহ অনেক খোজাখুজি করে পাইনি।
স্থানীয়রা জানান, সাজেদা বেগমের এমন আচরণে তারা বিস্মিত। দীর্ঘদিনের সুখী দা¤পত্যের পর হঠাৎ এমন ঘটনার পেছনে অন্য কোনো প্রভাব আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা উচিত।
এ বিষয়ে সাজেদা বেগমের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তাকে পাওয়া যায় নি।
বাংলাদেশ সময়: ০:৪৪:৪৮ ১১২ বার পঠিত