
ইব্রাহিম আকতার আকাশ ॥
ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার ফুল কাচিয়া ইউনিয়নের ৫নম্বর ওয়ার্ডে এক হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে। নিজের ছেলের প্রতারণার শিকার হয়েছেন ষাটোর্ধ্ব এক অসহায় মা মনোয়ারা বেগম।
পরিশ্রম আর কষ্টে গড়ে তোলা নিজের ২৪ শতাংশ জমি প্রতারণার মাধ্যমে নিজের নামে দলিল করে নেন তাঁর ছেলে বশির। এ ঘটনায় মনোয়ারা বেগম ছেলের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেন।
ভোলা আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে বশিরকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। তবে জামিনে মুক্তি পেয়ে বশির মাকে সাহায্যকারী কয়েকজনের বিরুদ্ধেই মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলা দায়ের করেন। মামলার আসামির মধ্যে রয়েছেন আফসার উদ্দিন, মো. খোকন, লোকমান, কাজল ও আসাদসহ আরও কয়েকজন।
বর্তমানে মামলাটির তদন্তভার দেওয়া হয়েছে ভোলা জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের কাছে।
এরই মধ্যে গত শনিবার গভীর রাতে মনোয়ারা বেগমের ঘরে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুনে ঘরের আসবাবপত্রসহ মূল্যবান জিনিসপত্র পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এ ঘটনায় তিনি চরম মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন।
রোববার সকালে ভোলার একটি অফিসে সংবাদ সম্মেলন করে মনোয়ারা বেগম বলেন, “আমি আমার ছেলের বিচার চাই। যে সন্তানকে বুকের দুধে বড় করেছি, সে-ই আজ আমার সর্বনাশের কারণ। আমি ন্যায়বিচার চাই।”
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত মিথ্যা মামলার আসামিরাও এই হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান এবং বশিরের শাস্তি দাবি করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বশির প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তারা প্রশাসনের কাছে দ্রুত তদন্ত শেষে প্রকৃত সত্য প্রকাশের দাবি জানান।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত বশির অকপটে মিথ্যা মামলা দায়েরের বিষয়টি স্বীকার করলেও মনোয়ারা বেগমের জমি তিনি প্রতারণা করে নেননি বলে দাবি করেন।
এক মা, এক সন্তান। কিন্তু ভালোবাসার জায়গায় জন্ম নিয়েছে প্রতারণা, ষড়যন্ত্র আর অমানবিকতা।মনোয়ারা বেগম এখন শুধু চান ছেলের অন্যায়ের বিচার এবং সত্যের জয়ের নিশ্চয়তা।
বাংলাদেশ সময়: ২২:২৬:০১ ১০০ বার পঠিত