ভয়াল ১২ই নভেম্বর স্মরণে ভোলায় আলোচনা সভা ও র‌্যালি অনুষ্ঠিত

প্রচ্ছদ » জেলা » ভয়াল ১২ই নভেম্বর স্মরণে ভোলায় আলোচনা সভা ও র‌্যালি অনুষ্ঠিত
বুধবার, ১২ নভেম্বর ২০২৫



 ---

এম শাহরিয়ার ঝিলন/ মোঃ বেল্লাল নাফিজ ॥

১৯৭০ সালের ভয়াল প্রলয়ংকারী ঘূর্ণিঝড় গোর্কির ১২ই নভেম্বর উপলক্ষ্যে ‘উপকূল দিবস’ হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবীতে ভোলায় স্মরণসভা, আলোচনা ও র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১২ নভেম্বর) সকালে ভোলা প্রেসক্লাবে উপকূল ফাউন্ডেশন, ব-দ¦ীপ ফোরাম, জাগরণ ফাউন্ডেশন, যুব রেড ক্রিসেন্টসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ভোলা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী আলহাজ্ব গোলাম নবী আলমগীর।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক আজকের ভোলা সম্পাদক আলহাজ্ব মুহাম্মদ শওকাত হোসেন, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ুন কবির সোপান, যুগ্ম আহ্বায়ক এনামুল হক, ভোলা সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আসিফ আলতাফ, ভোলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও ভোলা প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক এড্যা. ড. আমিরুল ইসলাম বাছেত, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি জামিল হোসেন ওয়াদুদ।

---

ব-দ্বীপ ফোরামের প্রধান সমন্বয়কারী মীর মোশারেফ অমির সভাপতিত্বে এবং উপকূল ফাউন্ডেশনের সদস্য সচিব মোঃ আনোয়ার হোসেনের সঞ্চালনায় এসময় বক্তব্য রাখেন, সাবেক প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ আবু তাহের, দুদকের পিপি সাংবাদিক এড্যা. সাহাদাত শাহিন, বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী স্কুলের প্রধান শিক্ষক জহিরুল ইসলাম, দৈনিক আজকের পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি শিমূল চৌধুরী, ক্যাব ভোলার সভাপতি মোঃ সোলাইমান, কবি ডা. মোঃ মহিউদ্দিন, উপকূল ফাউন্ডেশনের আহ্বায়ক এম শাহরিয়ার ঝিলন, ব-দ্বীপ ফোরামের সদস্য ইয়াছিন আরাফাত, উপকূল ফাউন্ডেশনের সমন্বয়ক এ্যাড. ইয়ামিন হোসেন, জাগরণ ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক মোঃ সুমন, যুব রেডক্রিসেন্ট এর সদস্য মোঃ শান্ত প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

সভায় পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত করেন যুব শক্তি ফাউন্ডেশনের সদস্য মোঃ শাকিব এবং ইসলামী সংগীত পরিচালনা করেন মোঃ আবদুর রহমান।

---

আলোচনা শেষে প্রেসক্লাবের সামনে থেকে একটি র‌্যালি বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। র‌্যালিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং সর্বস্তরের জনগণ অংশ নেন।

আলহাজ্ব গোলাম নবী আলমগীর তাঁর বক্তব্যে ঘূর্ণিঝড় গোর্কির ভয়াবহতা তুলে ধরেন এবং এই দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “১৯৭০ সালের এই দিনে ঘূর্ণিঝড় গোর্কি আমাদের উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবনে এক চরম আঘাত হেনেছিল। আমরা সেই দিনের কথা ভুলিনি। আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকেও এই ইতিহাস জানাতে হবে, যাতে তারা প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় সচেতন হতে পারে।” সরকারের কাছে দিনটিকে স্মরণ করে ১২ই নভেম্বরকে উপকূল দিবস ঘোষণার আহ্বান জানাচ্ছি।

এসময় অন্যান্য বক্তারা বলেন, এই ভয়াল ঘূর্ণিঝড়ে দক্ষিণাঞ্চলের ১০ লাখেরও মানুষ মারা গেছে। হাজার হাজার ঘর-বাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছিল। কোটি কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষিত হয়েছে। যা পৃথিবীর ইতিহাসে এক কালো অধ্যায় হয়ে আছে। দিনটি স্মরণে ভোলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত আলোচনা সভা ও র‌্যালিতে ঘূর্ণিঝড়ে নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা করা হয় এবং ভবিষ্যতের প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রস্তুতির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

---

বক্তারা আরও বলেন, ১২ই নভেম্বরের তাৎপর্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থা ও জনসাধারণের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর জোর দেন। তাঁরা উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ, আশ্রয় কেন্দ্র বৃদ্ধি এবং দুর্যোগ প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম জোরদার করার দাবি জানান।

বক্তারা আরও বলেন, ১৯৭০ সালের এই দিনে প্রলয়ংকারী ঘূর্ণিঝড় গোর্কির আঘাতে ল-ভ- হয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল। প্রায় ৪ লাখেরও বেশি ঘর-বাড়ি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছিল এবং ৩৬ লাখেরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। শুধু ভোলা জেলাতেই আনুমানিক ৫ লাখ মানুষ প্রাণ হারিয়েছিল। পুরো উপকূল এলাকায় প্রায় ১০ লাখ মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। ঘটনার ৫৫ বছর পরেও সেই দুঃসহ স্মৃতি দক্ষিণ জনপদের মানুষের মন থেকে মুছে যায়নি।

---

১২ই নভেম্বরের রাতে ঘূর্ণিঝড় গোর্কির তা-বে ভোলা সদর, তজুমদ্দিন, দৌলতখান, মনপুরা, চর নিজাম, ঢালচর, কুকরি-মুকরিসহ বিস্তীর্ণ জনপদ মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছিল। স্থানীয়দের বর্ণনা অনুযায়ী, এমন কোনো গ্রাম ছিল না যেখানে কোনো না কোনো মানুষ মারা যায়নি। আশ্রয়কেন্দ্রের অভাবে অনেকে গাছে উঠে প্রাণ বাঁচিয়েছিল। ঘর-বাড়ি, ফসল ও প্রিয়জন হারিয়ে মানুষ শোকে পাথর হয়ে গিয়েছিল। ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের ভয়াবহতা এতটাই নির্মম ছিল যে, সেই দিনের কথা মনে পড়লে আজও ভোলাবাসীর বুক ভয়ে কেঁপে ওঠে।

 

বাংলাদেশ সময়: ১৩:৫৫:২৪   ২৪৩ বার পঠিত  







পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

জেলা’র আরও খবর


সংসদীয় স্থায়ী কমিটি: আইন মন্ত্রণালয়ের সভাপতি পার্থ
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ছাড়া জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হবে না: ভোলায় গোলাম পরওয়ার
লালমোহনে অরক্ষিত বেড়িবাঁধে আতঙ্ক
বোরহানউদ্দিনে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ব্রাজিল সমর্থকের মৃত্যু, আহত ১
জলবায়ু মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই: ভোলা জেলা প্রশাসক
ভোলার উপকূলে ১ কোটি বৃক্ষ রোপন করা হবে: গোলাম নবী আলমগীর
চরফ্যাশন-বেতুয়া-ঢাকা নৌরুটে ‘রোটেশন’ প্রথা বাতিলের দাবি, নৌ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টদের লিগ্যাল নোটিশ
মিতু হত্যা নয়, আত্মহত্যা দাবি স্বামীর স্বজনদের, সুষ্ঠু তদন্তের আহ্বানে সংবাদ সম্মেলন
মধ্যরাতে খুলছে বঙ্গোপসাগর
চার বছরেও আধুনিকায়ন হয়নি ভোলার ইলিশা ঘাট, চরম দুর্ভোগে যাত্রীরা



আর্কাইভ