
ছোটন সাহা ॥
ফ্রি গ্যাস ব্যবহার করছেন ভোলার বোরহানউদ্দিনের ৫টি গ্রামের অসংখ্য মানুষ। এ বিষয়টি রূপকথার গল্পের মত মনে হলেও বাস্তবেই দেখা গেছে এমন চিত্র। যেখানে গভীর নলকূল খনন করলেই মিলছে গ্যাসের সন্ধান। আর সেই বিনে পয়সায় ব্যবহার করছেন স্থানীয়রা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেল, এক যুগেরও বেশী সময় ধরে ওইসব গ্রামের শতশত টিউবওয়েল থেকে অজস্র ধারায় ঝড়ছে পানি। আর লাইনবিহীন গ্যাসের চুলায় জ্বলছে আগুন। যা দিয়ে চলছে গৃহীনিদের রান্না, তবে গ্যাস ব্যবহারে দিতে হয় না কোন টাকা। বিনা খরচে এভাবে গ্যাস ও পানির সুবিধা নিচ্ছেন অন্তত ৫ হাজার পরিবার।
সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, পুরো গ্রামজুড়ে ফ্রি গ্যাসের ব্যবহার। পাইপ লাইন টেনে গ্যাস দিয়ে কেউ রান্না করছেন কেউ বা সংযোগ দিয়ে উপার্জন করছেন টাকা। একেকটি টিউবওয়েল থেকে গড়ে ৪/৫ টি লাইন টানা হয়েছে।
জানা গেছে, ৩৫ বছর আগে ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় প্রথম শাহবাজপুর গ্যাস ক্ষেত্র আবিস্কৃত হয়। ওই গ্যাস ক্ষেত্রের চারপাশের গ্রামগুলো যেন গ্যাসের জনপদে পরিনত হয়েছে।
বিশেষ করে কাচিয়া, টবগী ও হাসাননগরসহ অন্তত ৫ গ্রামে নলকূপ খনন করলেই মিলছে গ্যাসের সন্ধান।
ফলে সংযোগবিহীন গ্যাস ও পানি ব্যবহার করছেন এলাকাবাসি। বিষয়টি সম্পর্কে অনুসন্ধান করতে গেলে ফ্রি গ্যাস ব্যবহারের কথা স্বীকার করেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দা ইউনুস ও রত্তন হাওলাদার বলেন, আমরা এখানে টিউবওয়েল খনন করলেই গ্যাস বেরিয়ে আসে সেগুলো আমরা ব্যবহার করছি, আমাদের মত বহহু পরিবার এ গ্যাস ব্যবহার করছে।
জানা গেল, পুরো এলাকার চিত্র যেন একই। গ্যাসের উদগীরন আর ভূ-গর্ভের ৯’শ ফুট নিচ থেকে উঠে আসছে পানি। সেই পানিকে ব্যবহারের পাশাপাশি নলকূপে ড্রাম, কম্প্রসার এবং সিলিন্ডার বসিয়ে বিনা খরচেই রান্নার চুলায় গ্যাস ব্যবহার করছে গৃহিনীরা।
গৃহিনী জান্নাত বেগম ও রোজিনা বলেন, গ্যাস ব্যবহার করতে আমাদের কোন টাকা লাগে না, আমরা বিননে পয়সা গ্যাস ও পানি ব্যবহার করছি।
তবে এসব সংযোগে অব্যবস্থাপনা থাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকিও রয়েছে। তবুও এ গ্যাসকে কাজে লাগিয়ে সেখানে গড়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি কারখানা।
দিনের পর দিন এভাবে প্রকৃতিক সম্পদের অপচয় হলেও যেন কারো যেন মাথা ব্যাথা নেই। ফলে রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে সরকার।
তবে উপজেলা প্রশাসন বলছে, বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।
বোরহানউদ্দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রায়হান-উজ্জামান বলেন, বাপেক্স বলছে এগুলো পকেট গ্যাস তাই লোকজন ব্যবসহার করছর, তবেবে আমরা বিষয়টি নিয়ে উর্ধ্বতন পর্যায়ে কথা বলবো, বিনা অনুমতিতে গ্যাস ব্যবহারর মোটেও ঠিক না।
জানতে চাইলে ভোলা বাপেক্সের ডিজিএম শাহাদাৎ হোসেন জানান, ওই গ্যাসের সাথে শাহবাজপুর গ্যাসক্ষেত্রের কোন কূপের সাথে সংযোগ না থাকায় আপাতত অনুমতির প্রয়োজন নেই।
উল্লেখ্য, ভোলায় ৩টি গ্যাস ক্ষেত্র ২.৪ টিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস মজুদ রয়েছে। ৩টি বিদ্যুৎ প্লান্টসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিন সরবরাহ হচ্ছে ৭০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস।
বাংলাদেশ সময়: ০:২৭:৩০ ৩৩৮ বার পঠিত