
স্টাফ রিপোর্টার ॥
ভোলার তজুমদ্দিনে চোরাই গরু খুঁজতে এসে সংঘবদ্ধ চোরচক্রের হামলার শিকার হয়ে মুক্তিপণ দিয়ে প্রাণে বাঁচলেন গরুর মালিক দিবস বিশ্বাস, তার ছেলে ও তাদের হোন্ডার ড্রাইভার। এ ঘটনায় দিবস বিশ্বাস বাদী হয়ে সংঘবদ্ধ চোরচক্রের ৭ সদস্যের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরো ২৫/৩০ জনকে আসামী করে তজুমদ্দিন থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
এজহার সুত্রে জানা গেছে, লালমোহন উপজেলার কালমা ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা গরীব কৃষক দিবস বিশ^াসের গোয়ালঘর থেকে গত ১২ অক্টোবর রাতে একটি গরু অজ্ঞাতনামা চোরচক্র নিয়ে যায়। পরের দিন সকালে গরু খুজতে বের হলে সংবাদ পান তার চুরি হওয়া গরুটি তজুমদ্দিন উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের কাজিকান্দি গ্রামের সংঘবদ্ধ গরু চোরচক্রের নিকট রয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে ১৩ অক্টোবর বিকালে দিবস বিশ্বাস তার বড় ছেলে দেব কুমার ও হোন্ডার ড্রাইভার মোঃ শাহিনসহ গরু খুঁজতে কাজিকান্দি আসে। এ সময় কাজিকান্দি গ্রামের ব্রিজের উপর আসলে শফিক, রিয়াজ, রিপন, শরীফ, রাশেদ, আয়শা বেগম ও তাছলিমা বেগমসহ ২৫/৩০জন এসে তাদের গতিরোধ করে এবং আগমনের বিষয় জানতে চায়। দিবস বিশ্বাস চোরই গরু খোঁজ করার বিষয়টি জানালে সংঘবদ্ধ চোরচক্রের সদস্যরা তাদের লাঠিসোটা দিয়ে এলোপাতাড়ি মারপিট করে ও শরীরের বিভিন্ন অংশে ফুলা যখম করে। মারপিটের ঘটনায় দিবস বিশ্বাস (৫৫), দেব কুমার (৩৫) ও মোঃ শাহিন (৩৫) গুরুতর আহত হয়। পরে আহতদেরকে জোড়পূর্বক তুলে নিয়ে শফিকের বসত ঘরের একটি রুমে আটক রেখে ২ লক্ষ টাকা মুক্তিপণদাবী করে সংঘবদ্ধচক্রটি। পরে দিবস বিশ্বাসের বড় ছেলে দেব কুমার তার ছোট ভাই দোনল বিশ^াস নগদ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে কাজিকান্দি শফিকের বসত ঘরের নিকট আসলে চোরচক্রের আরেক সদস্য মোঃ রিয়াজ মুক্তিপণের ৫০ হাজার টাকা নিয়ে আটক ৩ জনকে ছেড়ে দিলে তজুমদ্দিন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে রাতে তজুমদ্দিন থানায় মোঃ শফিক (৪৫), মোঃ রিয়াজ (৩৬), মোঃ রিপন (৩৪), শরীফ (৩৫), মোঃ রাশেদ (২৫), আয়শা বেগম (৩০), মোসাঃ তাছলিমা বেগমের (৩২) নাম উল্লেখ করে আরো ২৫/৩০জন সংঘবদ্ধ গরু চোরচক্রের সক্রীয় সদস্যকে অজ্ঞাতনামা আসামী করে দিবস বিশ^াস একটি মামলা দায়ের করেন। মোকদ্দমা নং জিআর ৯১/২৫ তজুমদ্দিন, তজুমদ্দিন থানায় মামলা নং-৬।
সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে তজুমদ্দিন থানার অফিসার ইনচার্জ মহব্বত খাঁন বলেন, আসামীদের গ্রেপ্তার করতে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। যতদ্রুত সম্ভব আসামীদের গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে প্রেরণ করা হবে।
উল্লেখ, এই গরুচোর চক্রের উৎপাতে পুরো ভোলাবাসী আতংকিত। আন্তঃজেলা গরু চোরচক্রের নিয়ন্ত্রণ হয় তজুমদ্দিনের কাজিকান্দি থেকে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কাজিকান্দির একাধিক বাসিন্দা জানান, প্রতিদিন রাতে কাজিকান্দি নতুন নতুন গরু প্রবেশ করে নোয়াখালী, হাতিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় তা পাঁচার করে। তাদের হামালার ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায়না। অন্যদিকে কেউ তার হারানো গরু খুঁজতে আসলে আন্তজেলা চোরচক্রের এসব সক্রিয় সদস্য মোবাইল কলের মাধ্যমে একত্রিত হয়ে মালিক পক্ষের উপর প্রতিনিয়ত হামলা চালায় বলেও এলাকাবাসীর জানান। চোরচক্রের কর্মকান্ড খুলনার এরশাদ সিকদারের কর্মকান্ডকেও হারমানায়। চোরই গরু রাখার জন্য তাদের রয়েছে একাধিক গোয়ালঘর। কাজিকান্দির পোল থেকে তাদের গোয়ালঘর পর্যন্ত পাহারা থাকে কিছু সদস্য। যে গরুর মালিক পক্ষ তাদের গোয়ালঘর পর্যন্ত যেতে পারে না। তারপরও কেউ যেতে চাইলে হামলার শিকার হয়ে গুরুতর আহত হয়ে ফিরতে হয় কাজিকান্দি থেকে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় কাজিকান্দি এলাকাটি এই চোরচক্রের নিজস্ব রাষ্ট্র। সেখানে তাদের অনুমতি ব্যতিত প্রবেশ অবৈধ। কেউ প্রবেশ করলে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী হিসেবে তাদের আদালতে শাস্তির মুখোমুখি হতে হয়।
বাংলাদেশ সময়: ১:২৫:৩৭ ৭১২ বার পঠিত