ভোলায় ভেড়া পালনে পাল্টে যাচ্ছে গ্রামীণ অর্থনীতি, সৃস্টি হচ্ছে নতুন সম্ভাবনা

প্রচ্ছদ » অর্থনীতি » ভোলায় ভেড়া পালনে পাল্টে যাচ্ছে গ্রামীণ অর্থনীতি, সৃস্টি হচ্ছে নতুন সম্ভাবনা
রবিবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫



---

ছোটন সাহা ॥

ভোলায় দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ভেড়া পালন। এটি গ্রামীণ অর্থনীতিতে সম্ভাবনা দেখাচ্ছে। স্বল্প পুঁজিতে অধিক লাভ হওয়ায় এটি একদিকে যেমন বেকারত্ব দূর করছে, তেমনি সমৃদ্ধ করছে গ্রামীণ অর্থনীতিকে। একজনকে দেখে অন্যরাও ভেড়া পালনে উৎসাহীত হচ্ছেন।

জানা গেছে, আধুনিকতার ছোয়ায় নানা পেশায় এসেছে পরিবর্তন। এতে সৃষ্টি হচ্ছে নতুন নতুন সম্ভাবনা। তেমনি ভেড়া পালন অন্যতম।

ভোলার গ্রামীণ অর্থনীতিতে বইছে পরিবর্তনের হাওয়া। আর এই পরিবর্তনের অন্যতম কারিগর ভেড়ার উন্নত জাত গাড়ল বা ভেড়া পালন। যা নীরবে ঘটাচ্ছে বিপ্লব, বদলে দিচ্ছে খামারিদের ভাগ্য। ভোলা সদর উপজেলার পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নের বাসিন্দা মোহাম্মদ ফিরোজ।

তিনি মাত্র ছয়টি গাড়ল দিয়ে খামার শুরু করে গত দুই বছরেই তিনি আয় করেছেন লক্ষাধিক টাকা। বর্তমানে তার খামারে ছোট-বড় মিলিয়ে ভেড়ার সংখ্যা ২৫টি। ফিরোজের এই সাফল্য এখন এলাকার অন্যদের জন্যও অনুপ্রেরণা।

ফিরোজ বলেন, জিজেইউএস এনজিও সংস্থা থেকে ৬টি ভেড়া পেয়েছি, এখন আমার কাছে ২৫টি ভেড়া আছে, এরমধ্যে বেশ কয়েকটি বিক্রি করেছি। অনেকেই আমাকে দেখে উৎসাহ পাচ্ছেন। অনেক আবার ভেড়া পালন শুরু করেছেন।

---

ফিরোজের দেখানো পথে হেঁটে এখন স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন আরও অনেকেই। তাদের মধ্যে দুলাল, মালেক ও সোহাগ।

তারা বলেন, অল্প পরিশ্রম ও পুজিতে ভেড়া পালনে অনেক লাভ। তাই আমরা ভেড়া পালন শুরু করেছি, আমাদের দেখে অনেকেই উৎসাহীত হয়েছেন।

খামারিদের এমন ব্যক্তিগত উদ্যোগ আরও উৎসাহিত করছে বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার সহায়তা। এ ব্যাপারে জিজেইউএসের মনিটরিং অফিসার

মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, আমরা পরীক্ষামূলকভাবে বেশ কয়েকজনকে ভেড়া দিয়েছি, এতে বোঝা যায় এখানে ভেড়া পাল উটযোগী, আমাদের চিকিৎসকরাও তাদের সহযোগঅতা করছে। এটি দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠবে।

কবেল উন্নয়ন সংস্থাই নয়, ভেড়া পালনের এই উদ্যোগে খামারিদের পাশে দাঁড়িয়েছে প্রাণিসম্পদ বিভাগও।

জেলা প্রাণিস¤পদ কর্মকর্তা ডা. রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ভোলার আবহাওয়া ও চরাঞ্চলের পরিবেশ গাড়ল পালনের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। খামারিদের সবধরণের কারিগরি সহায়তা ও পরামর্শ দিচ্ছেন আমরা।

এদিকে বিশেষজ্ঞ আর উদ্যোক্তারা বলছেন, সঠিক পরিচর্যা আর সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে ভোলা অঞ্চলে গাড়ল পালনই হতে পারে দারিদ্র্য জয়ের অন্যতম হাতিয়ার।

যা শুধুমাত্র খামারিদের ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং পুরো গ্রামীণ অর্থনীতিতে যোগ করতে পারে এক নতুন মাত্রা।

বাংলাদেশ সময়: ২২:১৪:৩৭   ১৩৫০ বার পঠিত  







পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

অর্থনীতি’র আরও খবর


মাছ নেই, ঋণের জালে জেলেরা
মনপুরায় রাজা ইলিশের দাম ১৫ হাজার টাকা
মনপুরার মেঘনায় জেলের জালে ২৫ কেজির কোড়াল, ৩৪হাজার টাকায় বিক্রি
ভোলায় আড়াই কেজি ওজনের রাজা ইলিশের দাম উঠেছে ১৩ হাজার টাকা
ভোলায় ৫০ হাজার কৃষকের ১৩ হাজার হেক্টর জমির আমন আবাদ হুমকির মুখে
ভোলা উপকূলের নদীতে ধরা পড়ছে বড় সাইজের ইলিশ, বিদেশে রপ্তানির প্রস্তুতি
মেঘনায় জেলের জালে রাজা ইলিশ, ১১ হাজার টাকায় বিক্রি
মনপুরায় সাড়ে ৩ কেজির দুই ইলিশ বিক্রি ১৫ হাজার টাকায়
ঢাকার কারখানায় কদর বাড়ছে ভোলার গ্যাসের
লোকসানের অজুহাতে লঞ্চ চলাচল বন্ধ: একসময়ের জমজমাট ‘ভোলা খেয়াঘাট’ এখন নিরব-নিস্তব্ধ



আর্কাইভ