
লালমোহন প্রতিনিধি ॥
গ্রামের মধ্যবিত্ত পরিবারের এক সাধারণ তরুণ মোহাম্মদ আম্মার। ছোটবেলা থেকেই তার স্বপ্ন ছিল প্রযুক্তি জগতে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করার। তবে গ্রামীণ পরিবেশে থাকায় দীর্ঘদিন ধরে নিজের লক্ষ্য নিয়ে দ্বিধায় ছিলেন তিনি। অবশেষে স্বপ্ন পূরণের জন্য চলতি বছরের ফেব্রুয়ারী মাসে ছুটে যান কুমিল্লায়। সেখানে গিয়ে ভর্তি হন আইটি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান ‘এক্সপার্ট আইট পার্কের’ ডিজিটাল মার্কেটিং কোর্সে। সেখান থেকে ফ্রিল্যান্সিং শিখে এখন সফল তরুণ আম্মার। এরইমধ্যে তিনি আয় করেছেন চারশ ডলার।
আম্মার ভোলার লালমোহন উপজেলার পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়নের ৭নম্বর ওয়ার্ডের গজারিয়া এলাকার মো. বাবুলের ছেলে। একই সঙ্গে তিনি গজারিয়া ইসলামিয়া ফাযিল (ডিগ্রি) মাদরাসার আলিম দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।
আম্মার বলেন, আমি প্রত্যন্ত এলাকায় থাকি। সেখানে ফ্রিল্যান্সিং স¤পর্কে এখনো অনেকেরই ভালো কোনো ধারণা নেই। তবে আমার স্বপ্ন ছিল এই ফ্রিল্যান্সিং শিখে নিজের মতো করে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার। সেই স্বপ্ন পূরণ করতে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে চলে যাই কুমিল্লাতে। সেখানে গিয়ে আইটি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান ‘এক্সপার্ট আইট পার্কের’ ডিজিটাল মার্কেটিং কোর্সে ভর্তি হই। এরপরই শুরু হয় আমার নবযাত্রা। তবে প্রথম দিকে টেকনিক্যাল বিষয় শিখতে গিয়ে নানা সমস্যার সম্মুখিন হতে হয়েছে। এ নিয়ে অনেক সময় হতাশও হয়ে পড়তাম। তবে ছায়ার মতো পাশে থেকে প্রতিদিন আমাকে অনুপ্রেরণা দিয়েছেন মেন্টর মো. ওমর ফারুক।
তিনি আরো বলেন, কোর্স চলাকালীন সময়েই কাজ শুরু করি আন্তর্জাতিক ফ্রিল্যান্সিং ‘মার্কেটপ্লেস এবং আউট অব মার্কেটপ্লেস’-এ, দুই মাসের মাথায়ই আয় করি ৬০ ডলার। এ পর্যন্ত মোট আয় করেছি চারশ ডলার। বর্তমানে কোর্স চলাকালীন সময়েও প্রতি মাসে আমার শতাধিক ডলার করে আয় হচ্ছে। একজন নতুন ফ্রিল্যান্সারের জন্য এটি কেবল অর্থই নয়, বরং আত্মবিশ্বাস ও ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের জন্য বড়ভিত্তি। আমার স্বপ্ন এখানেই শেষ নয়। আমি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বড় ক্লায়েন্টদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি কাজ করতে চাই। পাশাপাশি ভবিষ্যতে নিজেই একটি আইটি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলবো। যার মাধ্যমে আমার নিজেরে এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানের নতুন প্রজন্মকে ফ্রিল্যান্সিংয়ে দক্ষ করে তুলবো ইনশাআল্লাহ।
এদিকে মোহাম্মদ আম্মারের গ্রামের বাড়ি দ্বীপ জেলা ভোলার লালমোহন উপজেলার সচেতন মহল মনে করছেন, এই তরুণের সাফল্য প্রমাণ করেছে, সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে গ্রাম আর শহর নয়, যেকোনো স্থানে থেকে যে কেউ বিশ্ববাজারে স্বমহিমায় নিজের জায়গা করে নিতে পারেন। আম্মারের এমন সফলতায় তিনি হয়ে উঠছেন নতুন প্রজন্মের অনুপ্রেরণা।
লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহ আজিজ জানান, বর্তমানে এই উপজেলায় ফ্রিল্যান্সিংয়ের কোনো প্রশিক্ষণ বা সহযোগিতার সুযোগ নেই। তবে সামনে কোনো সুযোগ আসলে তা আগ্রহীদের জানানো হবে।
বাংলাদেশ সময়: ০:৪৭:১৫ ১১৬৮ বার পঠিত