মোঃ বিল্লাল হোসেন।।
মেঘনা-তেতুলিয়া ও সাগর বেষ্টিত দ্বীপ জেলা ভোলা। এই জেলা থেকে অন্য জেলায় যেতে এমনকি নিজ জেলারও বিভিন্ন চর-চরাঞ্চলে যেতেও এই নদী-সাগর পাড়ি দেওয়া ছাড়া বিকল্প কোন ব্যবস্থা নেই। এই নদী- সাগর বছরের অধিকাংশ সময়েই থাকে উত্তাল। বর্ষায় হয়ে উঠে আরো ভয়ঙ্কর। ভোলার মেঘনার বেশ কয়েকটি রুটে নদী উত্তাল থাকায় ডেঞ্জার জোন বিবেচনায় নৌ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে বি.আই.ডব্লিউ.টি.এ।
বিপজ্জনক দেখে সরকার ১৫ মার্চ থেকে বর্ষা মৌসুম পর্যন্ত ভোলা, বরিশাল ও লক্ষ্মীপুর’সহ দক্ষিণাঞ্চলের প্রায় তিন হাজার কিলোমিটার নদীপথে নৌ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, কিন্তু কিছু অসাধু ব্যক্তি ঝুকিপূর্ণ এসব রুটে নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে যাত্রী পারাপার করছেন।
চরফ্যাশনের ঢাল চর, কুকরি মুকরি, চর নিজাম, মনপুরাসহ মনপুরার বিভিন্ন চরাঞ্চল, তজুমদ্দিনের চর জহির উদ্দিন, সদরের মাঝের চর, রামদাস পুরসহ বেশ কিছু অতিঝুকিপূর্ণ হাজার হাজার বসবাসরত চরাঞ্চলে নৌযান চলছে দেদারসে।
যাত্রীরা বলছেন, ঝুকিপূর্ণ জেনেও জীবন জীবিকার তাগিদে তারা এসব রুটে বছরের পর বছর পারাপার হতে বাধ্য হচ্ছেন, কারন এসব রুটে নিরাপদ কোন নৌযান বা সীট্রাক নেই। সরকার যদি এইসব রুটে নিরাপদ ও ঝুঁকিমুক্ত নৌযানের ব্যবস্থা করতো তাহলে তারা ঝুকিপূর্ণ ভাবে যাতায়াত করতো না।
অনেকেই বলছেন চাকরি সুবাদে তারা চর-চরা অঞ্চলে যেতে হচ্ছে কিন্তু নৌযান চলাচলে বন্ধ হয়ে, এসময় যাওয়ার কোন ব্যবস্থা নেই তাই তারা বাধ্য হয়েই জীবন মরন ঝুঁকি নিয়ে যেতে হচ্ছে।
বিআইডব্লিউটিএ ভোলা অঞ্চলের বন্দর কর্মকর্তা রিয়াদ হোসেন বলেন, আমরা প্রতিনিয়তই অবৈধ নৌযানের বিষয়ে নজর রাখছি। আমাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে কিছু অবৈধ নৌযান চলছে। এসব রুটে অতিরিক্ত নৌযান দেয়ার কথা ভাবছে কর্তৃপক্ষ।
আকাশে মেঘ দেখা দিলেই বন্ধ হয়ে যায় ভোলার মেঘনা ও সাগরের বিভিন্ন নৌরুট। আটকে পরে মানুষ। এসব বিপদ থেকে রক্ষা পেতে অতি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সীট্রাক সার্ভিসের জন্য সরকারের কাছে দাবী জানিয়েছেন ভোলাবাসী।
বাংলাদেশ সময়: ০:৫৩:৩৩ ৫১০ বার পঠিত