জরাজীর্ণ ভবনে শিক্ষা কার্যক্রম, আতঙ্ক

প্রচ্ছদ » লালমোহন » জরাজীর্ণ ভবনে শিক্ষা কার্যক্রম, আতঙ্ক
বৃহস্পতিবার, ৩১ জুলাই ২০২৫



---

বিশেষ প্রতিনিধি ॥

ভোলার লালমোহন উপজেলার ১৪৪নম্বর দক্ষিণ বদরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ ভবনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলছে শিক্ষা কার্যক্রম। বর্তমানে ভবনের ছাদ, দেয়াল ও বিমের বিভিন্ন স্থান থেকে খসে পড়ছে পলেস্তরা। বৃষ্টি হলে ছাদ থেকে চুইয়ে পড়ে পানি, ভিজে যায় শিক্ষার্থীদের বই-খাতাসহ বিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র। ফাটল ধরেছে ভবনটির নানান স্থানে। এর ফলে দিন যত যাচ্ছে ততই বেহাল হয়ে পড়ছে বিদ্যালয়ের ভবনটি। এতে আতঙ্কে দিন কাটছে ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের।

জানা গেছে, লালমোহন উপজেলার বদরপুর ইউনিয়নের ৩নম্বর ওয়ার্ডের প্রত্যন্ত এলাকায় শিক্ষার আলো ছড়াতে ১৯৮৮ সালে স্থাপন করা হয় বিদ্যালয়টি। এরপর ২০১৩ সালে জাতীয়করণ হয় এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি। ২০০৭ সালে বিদ্যালয়টিতে দুইতলা বিশিষ্ট একটি ভবন নির্মাণ করা হয়। তবে দীর্ঘদিন মেরামতের অভাবে বর্তমানে ভবনটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। বর্তমানে এ নিয়ে চরম আতঙ্কিত বিদ্যালয়টির ৬ জন শিক্ষকসহ ১৫৭ জন কোমলমতি শিক্ষার্থী।

শিক্ষার্থী আখি মনি, আনিসা মিম হুমায়রা জানায়, বৃষ্টি হলে বিদ্যালয়ের ভেতরে চুইয়ে চুইয়ে পানি পড়ে। ছাদের বিভিন্ন জায়গা থেকে পলেস্তরাও ভেঙে পড়ে। এতে আমাদের অনেক ভয় হয়। যার জন্য অনেক সময় আমাদের বিদ্যালয়ে আসতে ইচ্ছা হয় না।

ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. আনোয়ার হোসাইন ও আল-ইমরান বলেন, আমাদের বিদ্যালয়ের কেবল একটিই ভবন। সেটিও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। কখন জানি বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে, বিদ্যালয়ে আসলে সব সময়ই এমন ভয়ে থাকি। শ্রেণি কক্ষে পাঠদান করাতে গিয়েও কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিয়ে আমাদের চরম আতঙ্কে থাকতে হয়। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে এই বিদ্যালয়ের একটি নতুন ভবন নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ করছি।

১৪৪ নম্বর দক্ষিণ বদরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ ছালেহ উদ্দিন জানান, আমাদের বিদ্যালয়ের ভবনটি খুবই জরাজীর্ণ। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তবুও আমাদের শিক্ষকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নিয়মিত বিদ্যালয়ে এসে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করাচ্ছেন। আমি ভবনের এই বেহাল অবস্থা নিয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি বলেছেন আবেদন করতে। শিগগিরই একটি আবেদন তার কাছে জমা দেবো। তবে শিগগিরই বিদ্যালয়ে নতুন ভবন নির্মাণ না করলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ব্যাপক আশঙ্কা রয়েছে।

লালমোহন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শাহ আলম বলেন, বিষয়টি শুনে আমি সরেজমিন ওই বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেছি। সত্যিই ভবনটি খুব ঝুঁকিপূর্ণ। যার জন্য আমি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে বলেছি আবেদন করতে। তিনি আবেদন করলে আমরা তা ইউএনও মহোদয়কে পাঠাবো। এরপর তিনি বিদ্যালয়টিতে নতুন ভবন নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবেন।

বাংলাদেশ সময়: ৯:৪৯:০৭   ২৬৮ বার পঠিত  







পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

লালমোহন’র আরও খবর


ভোলা-৩ আসনে ৭ম বারের মতো বিজয়ের পথে মেজর (অবঃ) হাফিজ উদ্দিন আহমদ
লালমোহনে ধানের শীষের পক্ষে দীর্ঘদিন ধরে কৃষক দলের নির্বাচনীয় প্রচারণা
ক্ষমতায় আসলে অভিজ্ঞতা না থাকার কারণে জামায়াত দেশ পরিচালনায় ব্যর্থ হবে: মেজর অব: হাফিজ
সঠিকভাবে ভোট না দিলে গুনাহ আমলনামায় জমা হয়: পীর চরমোনাই
ভোলা-৩ আসনে নির্বাচনী প্রচারনায় জমে উঠছে নবীন প্রবীণের লড়াই
বাংলাদেশের মানুষ একটা স্বাধীনতা বিরোধী দলকে ভোট দিবে না: মেজর অব. হাফিজ
লালমোহনে ধানের শীষের পক্ষে উঠান বৈঠক, ভোট চাইলেন বিএনপি নেতারা
দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে বেহেশত পাওয়া যাবে-ইসলামে এমন কথা নেই: মেজর হাফিজ
ন্যায় ও ইনসাফের বাংলাদেশ গড়বে জামায়াতেইসলামী: ভোলায় অধ্যাপক মুজিবুর রহমান
নিরীহ আওয়ামী লীগকেও বিএনপিতে স্বাগত: জনসভায় মেজর অব: হাফিজ



আর্কাইভ