
আল আমিন ॥
ভোলা দৌলতখান উপজেলার চর মদনপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের চরমুন্সী গ্রামে দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে একাধিক গৃহবধূকে ধর্ষণ করার অভিযোগ উঠেছে ওই গ্রামের কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী হারুনের বিরুদ্ধে। গেল শনিবার (৬ জুলাই) ওই গ্রামের বাসিন্দা মমতাজ, নাছিমা, ফাতেমাসহ একাধিক নারী আজকের ভোলা পত্রিকার কাছে হারুনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে এ বক্তব্য দেন।
তবে পুলিশ বলছে, মৌখিক ভাবে কিছু অভিযোগ পেলেও এখন পর্যন্ত এই বিষয়ে কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করার আশ্বাস আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হারুন এলাকার একজন চিহ্নিত মাদক কারবারী। সে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত। এই কাজে তার সহযোগী হিসেবে রয়েছে স্থানীয় সিরাজসহ কয়েকজন পালিত বাহিনী। তার বাবা অত্র ওয়ার্ডের মেম্বার হওয়ায় তার ছত্রছায়ায় হারুন এসব কাজ করে বেড়ায়। গ্রামবাসী আজকের ভোলা পত্রিকার কাছে আরও বলেন, আমরা বিগত দিনে বহু বিচার চেয়েও কোন বিচার পাইনি। এখন হারুনের বিরুদ্ধে আমরা মামলা করব এবং আইন অনুযায়ী হারুনের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি দাবি করছি।
এছাড়াও গেল দুই মাস আগে নাছিমা বেগম (২৮) নামের এক নারীকে দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে জোরজবরদস্তি করে ধর্ষণ করার চেষ্টা করে। তৎক্ষনাৎ সে চিৎকার দিয়ে উঠলে আশপাশের মানুষ ছুটে এসে ওই নারীকে ধর্ষণের হাত থেকে রক্ষা করে। এসময় হারুন স্থানীয়দের ভয়ে পালিয়ে যায়।
এদিকে হারুনের বিভিন্ন অপরাধ মূলক কর্মকান্ডে অতিষ্ঠ হয়ে স্থানীয় আলী ও শহিদুল্লাহ মাঝি নামের দুই ব্যাক্তি বাদী হয়ে দৌলতখান থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেন। এছাড়াও একাধিক ভুক্তভোগী তার বিরুদ্ধে গ্রাম্য বিচার শালীসির মাধ্যমে বিচার চেয়েছে। কিন্তু তার অপরাধের মাত্রা দিনদিন বেড়েই চলছে।
সদ্য ঘটিত ঘটনার দিন (৪ঠা জুলাই) রাতে মমতাজের স্বামী এবং তার বাবা নদীতে ছিল এই সুযোগে হারুন টর্চলাইট এবং দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ঘরে ঢুকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ চেষ্টা করলে সে চেচামেচি করলেও মুখে হাত চেপে ধরে হারুন এবং তার পাশে ছিল মমতাজের ৩ বছরের শিশু সন্তান আবদুর রহিম ভয়ে চিৎকার করলে তাকে মারধর করে। এভাবে চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করে। এসময় সুযোগ বুঝে হারুন সটকে পড়েন।
ঘটনার এই বিষয়ে গত ৬ই জুলাই একটি গ্রাম্য শালীসির আয়োজন করা হয়। সেখানে মমতাজ এবং নাছিমা তাদের সাথে ঘটিত ঘটনার বর্ননা দিলে উপস্থিত শালিসদার মাইনুউদিন, মিলন পাটোয়ারী এবং হারুনের ভগ্নিপতি বনি আমিন ছিল। একাধিক সাক্ষীদের জবানবন্দি নিয়ে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলেও উপযুক্ত বিচার পায়নি দাবি মমতাজ ও নাছিমার।
এ বিষয়ে দৌলতখান থানার ভারপ্রাপ্ত (ওসি) মো. জিল্লুর রহমান বলেন, এঘটনায় ভিকটিমের কেউ এখনো বাদী হয়ে থানায় মামলা করেনি। তারা যদি মামলা করে তাহলে খুব শীগ্রই আমরা হারুনকে গ্রেফতার করবো। এই ঘটনায় জড়িতের শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য পুলিশ তৎপর রয়েছে।
বাংলাদেশ সময়: ১:৪৩:০৭ ২৩৬ বার পঠিত