
লালমোহন প্রতিনিধি ॥
১৪ বছরের কিশোর মো. ফাহিম। পরিবারের ৩ ভাই-বোনের মধ্যে সবার ছোট সে। ছোট হলেও তার কাঁধে সংসারের বোঝা। সংসারে অভাব-অনটন থাকায় ৬ষ্ঠ শ্রেণির পর আর পড়ালেখা করতে পারেনি ফাহিম। সে পড়ালেখা ছেড়ে সংসার চালাতে এনজিও থেকে ঋণ ও ধারদেনা করে কিনে একটি অটোরিকশা। এখন ওই অটোরিকশাটি চুরি হয়ে গেছে।
আয়ের একমাত্র সম্বল অটোরিকশাটি চুরি হয়ে যাওয়ায় এখন হতবিহ্বল কিশোর মো. ফাহিম। সে ভোলার লালমোহন উপজেলার ফরাজগঞ্জ ইউনিয়নের ৯নম্বর ওয়ার্ডের তালতলা বাজার এলাকার আব্দুল মতিন হাজী বাড়ির মো. রুহুল আমিনের ছেলে।
কিশোর মো. ফাহিম জানায়, মঙ্গলবার বিকেলে পৌরসভার চৌরাস্তার মোড় থেকে দুই যাত্রী ওঠে আমার অটোরিকশায়। তারা দেড়শ টাকা ভাড়া করে আমার অটোরিকশা দিয়ে ফরাজগঞ্জ ইউনিয়নের পেশকারহাট বাজারে যাবেন বলে জানান। এরপর তাদের নিয়ে পৌরসভা ভবনের সামনে গেলে তাদের মধ্যে একজন বলেন সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভেতর থেকে কিছু মালামাল আনতে হবে।
এজন্য তিনি আমাকেসহ সেখানে যান। সেখানে গিয়ে আমাকে দাঁড় করিয়ে রেখে বলেন, একটু পরে তিনি মালামাল নিয়ে আসবেন। তবে ১০ মিনিটেরও অধিক সময় হয়ে যাওয়ায় তিনি না ফেরায় আমি অটোরিকশার কাছে যাই। তবে গিয়ে দেখি অটোরিকশাটি নেই। পরে আশেপাশের লোকজনকে জিজ্ঞাসা করলে তারা জানান, অটোরিকশায় যে যাত্রী বসা ছিলেন তিনিই নিয়ে গেছেন রিকশাটি।
তার ভাষ্য, ‘এনজিও থেকে ঋণ, আমার মায়ের স্বর্ণ বিক্রি ও খালা এবং মামার থেকে টাকা ধার নিয়ে গত ৮ মাস আগে এই অটোরিকশাটি কিনি। রিকশা চালিয়ে প্রতিদিন পাঁচশ থেকে ছয়শ টাকার মতো আয় হতো। ওই টাকা দিয়ে সংসার চালাতাম আর এনজিওর কিস্তির পরিশোধ করতাম। তবে এখন আমি কী করবো, কীভাবে সংসার চালাবো আর দেনা পরিশোধ করবো কিভাবে? কারণ যে অটোরিকশাটি দিয়ে আয় করতাম তা-ই এখন চুরি হয়ে গেছে। চোরকে ধরে আমার অটোরিকশাটি উদ্ধার করে দেওয়ার জন্য প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করছি।’
ফাহিমের মামা মো. শাহজাহান বলেন, ফাহিমের বাবা সংসার চালাতে তেমন কোনো টাকা দেন না। তিনি চট্টগ্রামে সিএনজি চালান। ফাহিমের আরেক ভাই বিয়ে করে পরিবার নিয়ে চট্টগ্রাম থাকে। সেও কোনো খরচ দেয় না। এ ছাড়া ফাহিমের এক বোন থাকলেও তাকে বিয়ে দেওয়া হয়েছে। সংসারে এখন ফাহিম আর তার মা আছে। অভাব-অনটনে তাদের চলতে কষ্ট হয় দেখে ফাহিম একটি অটোরিকশা কিনে দিতে বলে। পরে এনজিও থেকে ৬০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে এবং ধারদেনা করে তাকে মোট ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা দিয়ে একটি অটোরিকশা কিনে দেই। ওই অটোরিকশা দিয়ে যা আয় করতো তা দিয়ে দেনা পরিশোধ আর কোনো রকমে মাকে নিয়ে সংসার চালাতো ফাহিম। এখন তার সেই অটোরিকশাটি চুরি হয়ে গেছে। প্রশাসনের কাছে অটোরিকশাটি দ্রুত উদ্ধার করে দেওয়ার দাবি করছি। এ ছাড়া রিকশাটি পাওয়া না গেলে ফাহিমকে তার মাকে নিয়ে সংসার চালাতে নতুন আরেক অটোরিকশা কিনে দিয়ে তাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সমাজের বিত্তবান ও সরকারের কাছে অনুরোধ করছি।
লালমোহন থানার ওসি মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বাংলাদেশ সময়: ০:১৭:২০ ২২০ বার পঠিত