
লালমোহন প্রতিনিধি ॥
ভোলার লালমোহন উপজেলায় গত কয়েক দিন ধরে বৃষ্টি হচ্ছে। এই বৃষ্টিকে ঘিরে যেন উৎসবের আমেজ বইছে ছাতা কারিগরদের মাঝে। পৌরশহরের হাফিজ উদ্দিন অ্যাভিনিউর ফুটপাতের ছাতা কারিগরদের এখন ব্যস্ততা বেড়েছে। ওই স্থানে ৪ থেকে ৫ জন পুরনো ছাতা মেরামত করেন। তাদের মধ্যে একজন ৭০ বছর বয়সী মো. কয়ছর আহমেদ বিশ্বাস। বিগত ৪০ বছর ধরে বর্ষার মৌসুমে ছাতা মেরামত করছেন তিনি। বৃদ্ধ কয়ছর আহমেদ উপজেলার বদরপুর ইউনিয়নের ৭নম্বর ওয়ার্ডের রায়রাবাদ এলাকার বাসিন্দা।
কয়ছর আহমেদ জানান, প্রায় ৪০ বছর ধরে ছাতা মেরামত করছি। বর্ষার মৌসুমে কাজ বেশি থাকে। গত কয়েকদিন বৃষ্টি হওয়ায় কাজ কিছুটা বেড়েছে। এ কারণে আয়ও বেড়েছে। এতে করে বর্তমানে কিছুটা স্বস্তিতে রয়েছি। সামনে যখন পুরোপুরি বর্ষা শুরু হবে তখন কাজ আরও বাড়বে। বর্তমানে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত হাফিজ উদ্দিন অ্যাভিনিউর ফুটপাতে বসে গড়ে প্রায় ৩০০ টাকার কাজ করতে পারি। এ দিয়ে চলে বৃদ্ধা স্ত্রীকে নিয়ে সংসার। তবে বর্ষার মৌসুম ছাড়া অন্য সময় তেমন কাজ থাকে না। তখন অলস সময় পার করি।
তিনি আরো জানান, আমার তেমন কোনো স¤পত্তি নেই। এ ছাড়া আমার ৪ ছেলে থাকলেও তারা বিয়ে করে আলাদা সংসার করে। আর ১ মেয়েকে বিয়ে দিয়েছি। সে শ্বশুর বাড়িতে থাকে। তাই এই বৃদ্ধ বয়সেও ছাতা মেরামতের কাজ করি। বয়স হওয়ায় এখন শরীরটাও ঠিক মতো চলছে না। তাই এক প্রকার বাধ্য হয়েই পেটের দায়ে এই কাজ করছি। যেহেতু বয়স হয়েছে তাই আর ক’দিনই বা এই কাজ করতে পারবো। এ জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতরের কর্মকর্তাদের প্রতি অনুরোধ রইলো, আমার নামে যেন একটি বয়স্ক ভাতা করে দেওয়া হয়। এ ছাড়া অসহায়দের জন্য সরকারি যে চাল রয়েছে সেখান থেকে চালের ব্যবস্থা করে দিলে বাকি দিনগুলো আরেকটু ভালোভাবে কাটাতে পারবো।
হাফিজ উদ্দিন অ্যাভিনিউর আরেক ছাতা কারিগর ৫৫ বছরের বৃদ্ধ মো. শাহে আলম। তিনি লালমোহন উপজেলার কালমা ইউনিয়নের ৫নম্বর ওয়ার্ডের চরছকিনা এলাকার বাসিন্দা।
তিনি বলেন, বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে ছাতা মেরামত করছি। বৃষ্টির সময় কাজ ভালো হয়। যার ফলে বর্ষার সময় অনেকটা ভালো আয় করতে পারি। বর্তমানে এ ছাতা মেরামত করে প্রতিদিন গড়ে ৩০০ টাকার মতো উপার্জন হয়। এই উপার্জনের আয়ে সন্তান ও স্ত্রীদের নিয়ে সংসার চালাচ্ছি। আমার সংসারে দুই মেয়ে ছিল, তাদের বিয়ে দিয়েছি। বর্তমানে ৩ ছেলে রয়েছে। তারা পড়ালেখার পাশাপাশি কাজ করে কিছু টাকা উপার্জন করে আমাকে সংসার চালাতে সহযোগিতা করে। আমার বসতভিটাটুকু ছাড়া আর কোনো স¤পত্তি নেই। তাই অন্য কোনো আয়ও নেই। নিজের উপার্জন আর ছেলেদের দেওয়া টাকায় কোনো রকমে সংসার চলছে।
তিনি আরো বলেন, এই পৌরসভাসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বেশ কিছু ছাতা কারিগর রয়েছেন। তাদের অধিকাংশই অসচ্ছল। তাই সরকারের কাছে দাবি করছি, আমাদের মতো ছাতা কারিগরদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার। তাহলে আমরা আরেকটু ভালো থাকতে পারবো।
লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহ আজিজ জানান, এই উপজেলায় যেসব ছাতা কারিগর রয়েছেন তারা আমার সঙ্গে দেখা করলে তাদের সঙ্গে আলোচনা করবো। এরপর তাদের সরকারি যে সহায়তার আওতায় আনা যায় তার আওতায় এনে তা প্রদানের সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।
বাংলাদেশ সময়: ১১:১৫:১৩ ১১৮ বার পঠিত