
মিজানুর রহমান ॥
ভোলার তজুমদ্দিনে দেবরেরা অসুস্থ্য বিধবা ভাবী ও বাতিজাকে চিকিৎসা না দিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখার জন্য চাচাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন ভাতিজী। রোগীর অবস্থা আশংকা জনক দেখে স্বজনরা হাসপাতালে খবর দিলে স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা রোগীর চিকিৎসা দিতে বাসায় গেলেও রুগীর চিকিৎসা দিতে দেননি ওই দেবররা। এমন অভিযোগে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন ওই ডাক্তার রাহাত হোসেন। পরে রাজনৈতিক নেতাদের হস্তক্ষেপে ওই রোগীকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। সম্প্রতি উপজেলার শম্ভুপুর ইউনিয়নের গোলকপুর গ্রামে রাজকুমার হাওলাদার বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, অবসরপ্রাপ্ত কাস্টমস সুপারেন্টেন অভিনাশ চন্দ্র হাওলাদার ২০২২ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারী মৃত্যুবরণ করেন। তার রয়েছে স্ত্রী শিউলি চৌধুরী (৫৫), প্রতিবন্ধী ছেলে অর্গ হাওলাদার (২০), বিবাহিত মেয়ে মিলিয়া হাওলাদার (২৫)। পরিবারের অমতে পালিয়ে বিয়ে করার অপরাধে মিলিয়া হাওলাদারকে বৃদ্ধ মা ও প্রতিবন্ধী ভাইয়ের কাছে আসতে দেন না তিন চাচা অরুন চন্দ্র হাওলাদার, নন্দলাল হাওলাদার ও রতন কৃষ্ণ ওরফে রাখাল হাওলাদার। এদিকে দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিসের কারনে স্কীন ইনফেকশন, এলার্জি জনিত রোগসহ জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েছেন মৃত কাস্টমস কর্মকর্তার স্ত্রী শিউলি চৌধুরী।
মিলিয়া অভিযোগ করেন, বাবার সম্পত্তির লোভে চাচারা আমার মা ও প্রতিবন্ধি ভাইকে ঘরে বন্ধি করে রেখে না খাইয়ে, বিনা চিকিৎসায় মেরে ফেলার চক্রান্ত করছে।
ওই বাসার গৃহকর্মী সুমিতা রানী জানান, চার মাসের মধ্যে শিউলি চৌধুরীকে কোথাও চিকিৎসা দিতে নেয়া হয়নি এবং বাসায়ও এমবিবিএস ডাক্তার আনা হয়নি।
শিউলি চৌধুরীর আপন বোন শ্যামলী ওরফে মনজু রানী জানান,আমার বোনের দেবররা মেয়েকে বাসায় আসতে দেননা। আমার অসুস্থ বোনকে চিকিৎসা না দিয়ে বাসায় ফেলে রেখেছেন। আমরা চিকিৎসা করাইতে নিতে আসলে অপমান করে আমাদের বের করে দেয়। ডাক্তার আনলে তাকেও অপমান করেন।
প্রতিবন্ধী ছেলে অর্গ হাওলাদার দুনিয়ার বিষয়ে কিছুই বুঝেননা।
এ ঘটনায় বিব্রতবোধ করে সাংবাদিকদের স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ডাঃ রাহাত হোসেন জানান,শিউলী চৌধুরী ডায়াবেটিস, এলার্জি, স্কীন ইনফেকশন সহ জটিল রোগে আক্রান্ত। শারীরিক অবস্থা ভালো নয়। তাকে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। আমি ওই রোগীকে চিকিংসা দিতে গিয়ে মা ও প্রতিবন্ধী ছেলেকে কক্ষে তালাবদ্ধ অবস্থায় নোংরা পরিবেশে দেখতে পাই। এসময় রোগীর দেবররা অশোভন আচরণ করলে আমি বিব্রত হই। মা-ছেলে ওই পরিবেশে বন্ধি জীবন যাপন করলে অচিরেই তাদের জীবনে কালো অধ্যায় নেবে আসবে। সম্পত্তির লোভে চাচা-দেবরেরা এ ধরনের কর্মকান্ড করবে তা বেআইনি।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত অরুণ চন্দ্র হাওলাদার বলেন,আমাদের না জানিয়ে মনজু রানী রোগীকে নিয়ে যাওয়ার চেস্টা করছিল, তাই বাধা দেয়া হয়েছে। পরে এ্যাম্ভুলেন্স নিয়ে ডাক্তার এসেছিল। কারা পাঠিয়েছে এ নিয়ে ভুল বুঝাবুঝি হয়। আমি চাকরি করি, পরিবারের সদস্যদের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করবো। বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হইতেছে।
বাংলাদেশ সময়: ০:৩১:৫১ ১৫৪ বার পঠিত