
স্টাফ রিপোটার ঃ
ভোলা সদর উপজেলার হাসপাতাল রোর্ডে (আমতলা মোড়ে) আওয়ামী লীগের ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে দৌলতখানের গোলাম কুদ্দুস ও শরীফ নামের দুই নেতা জবর দখল করা জমির উপর জি কে হাউজ ও আল-ইমারাহ নামে ঝুকিপূর্ন ২টি ৬তলা ভবন নির্মান করে বিক্রি করার পায়তারা করছে বরে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সকল আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে দখল করা জমির ভুয়া দলিল দেখিয়ে দৌলতখান উপজেলার বাংলা বাজার সোনালী ব্যাংক থেকে মোটা অংকের পাবলিক হাউজ লোন নিয়েছেন। শেখ হাসিনার সরকার পালিয়ে যাওয়ার পরে, জমিসহ ভবন গোপনে বিক্রির জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন তারা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ভোলা জেলার দৌলতখান উপজেলার গোলাম কুদ্দুস ও শরীফ নামের আওয়ামী লীগের দুই নেতা স্থানীয় ভুমি দস্যুদের মাধ্যমে ২০১৬ সালের দিকে, নবীপুরা মৌজার-২৬৬ নং খতিয়ানের-১২৯নং দাগে, হাসপাতাল রোর্ডের আমতলা মোড়ের নিকটে জোড়পূর্বক অবৈধ জমির উপর-জি কে হাউজ ও আলইমারাহ, নামে ঝুকিপুর্ন ৬তলা দুটি ভবন নির্মান করে রুম ভাড়া দেয়াসহ তার পরিবার বসবাস করেন। অবৈধভাবে দলিল সৃজন করে সেই দলিল দিয়ে, আওয়ামী লীগের ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে দৌলতখান উপজেলার বাংলাবাজার সোনালী ব্যাংক থেকে মোটা অংকের লোন গ্রহন করেন। যখন ক্ষমতার দাপট শেষ তখন বুঝতে পারেন জমি অবৈধ এবং ভবন ঝূকিপূর্ণ। তখন গোপনে জমি এবং ভবন বিক্রির জন্য মরিয়া হয়ে উঠেন তারা। তাদের পিছনে বিভিন্ন দালাল বাহিনী বিক্রির জন্য কাজ করছেন।
আইনজিবী, স্থানীয় সুত্র, খতিয়ান পর্যালোচনায় দেখা ও জমির প্রধান মালিকেরা জানান, ভোলা সদরের নবীপুরা মৌজার এস এ-২৬৬নং খতিয়ানে, ১২৯, ১৩০, ১৩৪, ১৩৫, ১৩৬, ৪৪২ এবং ৪৪৩ নং দাগে, ২০৯ শতাংশ জমির মালিক-ছবুরা খাতুন, ছেমনা খাতু ও ভগবর্তী গং। ছবুরা খাতুন ও ছেমনা খাতুনের-১৯২.৩৪ শতাংশ এবং ভগবর্তী গংদের ১৬.৬৬ শতাংশ। ছবুরা খাতুনের-৯৬ এবং ছেমনা খাতুনের-৯৬ শতাংশ। এস এ খতিয়ানে কোন ভুল হলে সাথে সাথে তা আদারতের মাধ্যমে সংশোধন করতে হবে, আর যদি ওই খতিয়ান স্বিকার করে জমি বেচা-বিক্রি করে তা হলে ওই খতিয়ান সংশোধনের আর কোন সুযোগ নাই।
ছেমনা খাতুন মৃত্যুর পরে, তার জমির ওয়ারিশ এক ছেলে,এক মেয়ে এবং এক স্বামী। ছেলের অংশ-৪৮, মেয়ে-২৪ এবং স্বামী-২৪ শতাংশ। কিন্তু ছেলে বিক্রি করে-৮২, মেয়ে-২৬ এবং স্বামী-৩২ শতাংশ এবং ছেলের অবৈধ দখলে রয়েছে ১৪ শতাংশের অধিক। ছবুরা খাতুনের-৯৬ শতাংশ বিক্রি করেন অন্য এক গ্রুপের কাছে।
ছেমনা খাতুনের ওয়ারিশ থেকে রাতের আধারে যারা অবৈধ নামজারি, বিএস খতিয়ান দেখে নামাত্র টাকা দিয়ে, অবৈধ জমি কিনে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে ঝূঁকিপূর্ণ ভবন করেছেন, ব্যাংক লোন নিয়েছেন, তারা বিপাকে রয়েছেন। বিএস জরিপের মুল খতিয়ান বেড় হলে মুল মালিকেরা ল্যান্ড সার্ভে আদাল,ে ভুয়া বিএস খতিয়ান বাতিলের মামলায় যাবেন। এরকম রয়ছে অরো ৩টি ভবন। জি কে হাউজের কুদ্দুসের ছলে জানান, আমরা কারামের কাছ থেকে জমি কিনে ২৮০০ স্কোয়ার ফুটের ৬তলা ভবন করেছি। ভবনের কোন সমস্যা নাই,টাকার দরকার হওয়ায় জমি ও ভবন বিক্রি করতে চাই।
এ ধরনের জালিয়াতি ও পৌরসভার প্লানের শর্ত ভঙ্গ করে ঝুকিপুর্ন ভবন নির্মানের ব্যাপারে আইনবিদেরা জানান,পৌরসভা প্রথমে পরিক্ষা করে শর্তভঙ্গের ব্যাপারে মালিককে নোটিশ এবং তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করবে ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবন অপসারনের ব্যাবস্থা করবেন।
এব্যাপারে ভোলা পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মোঃ নুর আলম আজাদ (রাসেল) জানান, পৌরসভার প্লানের বহিভুত কোন ভবন নির্মান করা হলে এমন অভিযোগ ও তথ্য পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা করা হবে।
বাংলাদেশ সময়: ২২:১০:২৫ ৩১২ বার পঠিত