
এইচ এ শরীফ, বোরহানউদ্দিন।।
ভোলা জেলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার লঞ্চঘাটে নোঙ্গর করা এমভি মানিক লঞ্চ যাত্রার পূর্ব মুহূর্তে পাখা পরিস্কার করতে গিয়ে খালে নেমে তাজুল ইসলাম (বড় মিয়া) নামের এক ইঞ্জিন রুমের স্টাফ নিখোঁজ হন, একদিন পর আজ উদ্ধার হয়।
গত ৫ মার্চ বুধবার দুপুর ২ টার দিকে বোরহানউদ্দিন উপজেলার খেয়াঘাটে এই ঘটনা ঘটে, ৬ মার্চ বৃহস্পতিবার এক কিলোমিটার অদূরে সন্ধান পাওয়া যায়।
এমভি মানিক লঞ্চের স্টাফরা জানান, বোরহানউদ্দিন উপজেলার খেয়াঘাট থেকে প্রতিদিন এমভি মানিক লঞ্চটি ছেড়ে যায় বিকেল ৪টার দিকে, লঞ্চ চেকের অংশ হিসেবে গতকাল যাত্রার পূর্ব মুহূর্তে লঞ্চের নিচে নামে পাখা পরিস্কার করার জন্য তাজুল ইসলাম খালের পানিতে ডুব দেয়। কিন্তু ১০ মিনিট অতিবাহিত হওয়ার পরও পানির নিচ থেকে না উঠতে দেখে বোরহানউদ্দিন ফায়ার সার্ভিসে ফোন করলে, ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা অনেকক্ষণ চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরে লঞ্চ কর্তৃপক্ষ ডুবরি আনার জন্য অপেক্ষা করে, এরিমধ্য বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা হওয়ার পর বাঁধে বিপত্তি।
ইফতারের পর কিছু অতিউৎসাহী উৎসুক ইয়াং ছেলেরা এসে বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে, এক পর্যায় নিচ তালা থেকে শুরু করে ৩ তালা পর্যন্ত লঞ্চের সামগ্রী, কেবিনের গ্লাস, জানালা এবং দরজা ভাংচুর করে। ভাংচুর করতে গিয়ে তাদের মধ্যে একজন গুরুতর আহত হয়ে বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি হয়, পরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভোলা সদর হাসপাতালে রেফার করে।
ভাংচুরের ঘটনা শুনে বোরহানউদ্দিন থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে, লঞ্চের চারপাশে উৎসুক জনতা গিরে রেখেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, লঞ্চ স্টাফ নিখোঁজের পর অনেক সময় অতিবাহিত হওয়ায় কিছু অতিউৎসাহী জনতা লঞ্চ ভাংচুর করে। আজ একদিন অতিবাহিত হওয়ার পর বরিশাল থেকে আসা ডুবুরি দলের একটি টিম বোরহানউদ্দিন খেয়াঘাট খালে উদ্ধারে নেমে এক কিলোমিটার অদূরে সুমরা ব্রিকসের পাশে খাল থেকে উদ্ধার করে লঞ্চ স্টাফ তাজুল ইসলামের মরদেহ।
বাংলাদেশ সময়: ২৩:৫২:৫৪ ৩১৫ বার পঠিত