
লালমোহন প্রতিনিধি ॥
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে ১৮ দিন পর অবশেষে মারাই গেলেন ভোলার লালমোহন উপজেলার মো. হাসান নামে এক যুবক।
তিনি রাজধানী ঢাকার যাত্রাবাড়িতে তরকারির আড়তের শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যূত্থানে বসে থাকতে পারেননি হাসান। তিনি অংশ নেন বিক্ষোভে। দুপুরের পর ওই বিক্ষোভে পুলিশ এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। গুলিতে হাসানের পিঠ, কাঁধ বিদ্ধ হয়। মোট ৭টি গুলি লাগে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে। এরপর তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে নেয়া হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে ১৮ দিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার (২৩ আগস্ট) রাতে মারা যান যুবক হাসান।
তিনি লালমোহন উপজেলার রমাগঞ্জ ইউনিয়নের ৬নম্বর ওয়ার্ডের সেকান্তর মেম্বার বাড়ির দিনমজুর মো. কবিরের বড় ছেলে।
নিহত হাসানের বাবা মো. কবির বলেন, যাত্রাবাড়ির কাজলা এলাকায় ঘর ভাড়া নিয়ে স্ত্রী এবং ২ সন্তানকে নিয়ে বাস করত হাসান। সেখানে তাদের সঙ্গে আমি এবং ছোট ছেলেও থাকতাম। বাবা-ছেলে মিলে বিভিন্ন স্থানে দিনমজুর হিসেবে কাজ করে সংসার চালাতাম। তবে ৫ তারিখে আমার ছেলে গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেয়। সেখানে এলোপাতাড়ি গুলি করে পুলিশ। ৭টি গুলি লাগে আমার ছেলে হাসানের শরীরে। এরপর তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেলে নিই। সেখানে এতোদিন চিকিৎসাধীন ছিল সে। তবে ছেলেটাকে আর বাঁচাতে পারিনি। অবশেষে মারাই গেল সে।
তিনি আরো বলেন, ছেলে তো মারাই গেল। এখন ছোট ছোট দুই সন্তানকে নিয়ে চরম অসহায় হয়ে পড়েছে হাসানের স্ত্রী বিবি মালা। তাদের বড় ছেলে হাবিবের বয়স পাঁচ বছর এবং ছোট ছেলে হাসিবের বয়স আড়াই বছর। তাদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে দুশ্চিন্তা গ্রাস করেছে মালাকে। স্বামী হারানোর কষ্টে আর্তনাদ আর আহাজারি করছে হাসানের স্ত্রী বিবি মালা। আমি হাসানের স্ত্রী এবং দুই সন্তানের জন্য সরকারি সহযোগিতা কামনা করছি।
এ বিষয়ে লালমোহন থানার ওসি এসএম মাহবুব উল আলম বলেন, ঢাকায় আন্দোলনে গিয়ে এ উপজেলার নিহতদের তথ্য আমরা সংগ্রহ করেছি।
অপরদিকে, যুবক হাসানের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে ঢাকায় আন্দোলনে লালমোহন উপজেলার মোট ১১ জন নিহত হয়েছেন। এদের বেশিভাগই শ্রমিক। এর আগের নিহত ১০ পরিবারকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়েছে।
বাংলাদেশ সময়: ৫:৫২:১৫ ২৭৭ বার পঠিত