একীভূত শিক্ষা ব্যবস্থা কেনো?

প্রচ্ছদ » মুক্তমঞ্চ » একীভূত শিক্ষা ব্যবস্থা কেনো?
মঙ্গলবার, ১৪ মে ২০২৪



 ---

 

: মাহাবুবুর রহমান :

শুচিতার মূর্ত প্রতীক শুভপ্রাণ শিশুরাই ধরার বুকে নিয়ে আসে নন্দনের সংবাদ। উত্তরকালে ধরার বুকে তাদেরই পদচারণা। শিশুরা আগামী প্রজন্মের স্বপ্ন। অনাগত দিনের নতুন ইতিহাস। শিক্ষা লাভের সুযোগ প্রত্যক মানব শিশুর মৌলিক অধিকারভুক্ত। মানব সন্তান সুনির্দিষ্ট কিছু প্রতিভা নিয়ে জন্ম গ্রহণ করে। মানব সম্পদ উন্নয়নের উদ্দেশ্য হলো এমন একটি পরিবেশ সৃষ্টি করা যেখানে সকলেই তাদের যোগ্যতার প্রসার ঘটাতে পারে। এই শিশুদের জীবন বিকাশের জন্য চাই যথার্থ পরিবেশ রচনা। চাই উদার সহৃদয় মানসিকতা। চাই প্রীতি প্রেমের পরিচর্চা। পরিবার, সমাজ ও বিদ্যালয় তাকে পরিকল্পিত রূপ দেওয়ার কারিগর। শিক্ষার আয়নায় সমাজ চেনা যায়, লোক সমাজকে দেখে শিশুদের আয়নায়। শিশুদের জন্য যোগ্য সমাদরের আসন নিশ্চিতের জন্য একীভূত শিক্ষা নামক বিজ্ঞান সম্মত শিক্ষা ধারার নতুন দিগন্তদ্বার উন্মোচিত হয়েছে। শিক্ষার সমান সুযোগ সৃষ্টির অপূর্ব চেতনাই একীভূত শিক্ষা। একীভূত শিক্ষার মূল কথা হচ্ছে “সব কিছু শিশুর জন্য, শিশুর জন্য সব কিছু। তাহলে প্রশ্ন আসে একীভূত শিক্ষা কী? একীভূত শিক্ষা হচ্ছে জাতি, ধর্ম, বর্ন নির্বিশেষে সকল ধরনের পার্থক্য, বৈষম্যের নাকপাশ ছিন্ন করে একই শিক্ষক দ্বারা, একই শিক্ষাক্রমের আওতায় একই পাঠ্যপুস্তক ও একই শিক্ষা উপকরণের মাধ্যমে একই শ্রেণিকক্ষে সকল মানব শিশুকে শিখন শেখানো কার্যাবলি সম্পাদন করে কাঙ্খিত যোগ্যতা অর্জনের নামই হচ্ছে একীভূত শিক্ষা। একীভূত শিক্ষার মূল কথা হচ্ছে শিক্ষা ব্যবস্থায় বা শিক্ষণ পদ্ধতিতে পরিবর্তন এনে তা বিভিন্ন সামর্থ্য বিশিষ্ট শিক্ষার্থীর জন্য সমানভাবে উপযুক্ত করা। একীভূত শিক্ষা কার্যক্রমে প্রত্যেক শিশুর জন্য শিক্ষায় সাম্যতা ও অধিকার নিশিত করে সমাজের দীর্ঘকালীন বৈষম্যপূর্ণ কাঠামো ভেঙ্গে ফেলা। প্রাথমিক শিক্ষায় প্রবেশ গম্যতা, সক্রিয় অংশগ্রহণ, যোগ্যতা অর্জন ও গ্রহণ যোগ্যতা ইত্যাদি ক্ষেত্রে যে সব বৈষম্যসমূহ আছে তা দূর করতে হবে। ভিন্নতা ও সামর্থ্যে বিশেষ করে শিক্ষার্থীর বিশেষ চাহিদা ও সম্ভাবনার ভিত্তিতে শিখন ও জ্ঞান অর্জনের প্রতিবন্ধকতা দূর করার পাশাপাশি সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থার মান উন্নীত করে সকল শিশুর জন্য একই মালয় গেঁথে মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করা। বৈচিত্রের মধ্যেই সৌন্দর্য। শিশুরা ভিন্ন হবে। তারা তাদের সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটাবে নিজের মত করে। সবাইকে একই রকম করার কোনো যৌক্তিকতা নেই। যে যেভাবে বিকশিত হতে চায় তাকে সেভাবেই হতে দেয়া প্রয়োজন। এই জন্য সকল অংশীজনদের এগিয়ে আসা প্রয়োজন। সকলের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পরিহার করে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি আনয়ন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে কবি কামিনী রায়ের ঐ উক্তিটি বিশেষভাবে প্রণিধানযোগ্য আপনারে লয়ে বিব্রত রহিতে, আসেনাই কেহ অবণী পরে, সকলের তরে সকলে আমরা, প্রত্যেকে মোরা পরের তরে।

লেখক: মাহাবুবুর রহমান

সহকারী শিক্ষক

১৬নং চরপাতা সঃ প্রাঃ বিদ্যালয়

ভোলা সদর, ভোলা।

মোবাঃ ০১৭১৪৬৯৬৭১৩

বাংলাদেশ সময়: ২:০৯:২৩   ৫৯ বার পঠিত  




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

মুক্তমঞ্চ’র আরও খবর


একীভূত শিক্ষা ব্যবস্থা কেনো?
ভোলা জেলার মুক্তিযুদ্ধকালীন প্রস্তুতি
মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি থেকে
আমার দেখা নিউইয়র্ক শহর
মুদ্রাস্ফীতিতে বাংলাদেশ
রোগীর সম্পৃক্ততাই তার নিরাপত্তা
বঙ্গবন্ধুর চেতনা আমাদের প্রেরণা
বেদনায় ভরা দিন
অর্থনীতিতে নার্সারিশিল্প
এলসি, দ্রব্যমূল্য, অর্থনীতির বর্তমান অবস্থা ও উত্তরণ



আর্কাইভ