জীবন যুদ্ধে জয়ী হলেন ভোলার ছেলে ফরহাদ

প্রচ্ছদ » জেলা » জীবন যুদ্ধে জয়ী হলেন ভোলার ছেলে ফরহাদ
রবিবার, ২১ মে ২০২৩



বিশেষ প্রতিনিধি ॥

ভোলার ছেলে ফরহাদ পরিবার ও বন্ধু বান্ধব কাউকে পাশে না পেয়ে ২০১০ সালে জীবন যুদ্ধে নেমে জান চিত্রগ্রাহকের সহকারী হিসেবে। কিন্তু সিনেমাটোগ্রাফি পেশা বেছে নিতে না করেন তার পরিচিত মানুষগুলো। কাউকে পাশে না পেয়ে গভীর এক সাগরে এসে পরলেও জীবন যুদ্ধে হার মানেনি ফরহাদ। কিন্তু কেউ পাশে না থাকলেও তার ছিল আত্মবিশ্বাস, যে তিনি একদিন সফল্যের দৌঁড় গোড়ায় পৌঁছাবেন। এ জন্য দিনের পর দিন কষ্ট করেছেন। কিন্তু দূর দিনে কাউকে পাশে না পেলেও সুদিনে সবাই পাশে আছে ফরহাদের সেগুলো হাসিমুখে মেনে নিয়েছেন। সেই ক্যামেরার কাজই তাঁর মুখে সত্যিকারের হাসি ফুটিয়েছে। ঈদে মুক্তি পাওয়া ‘লিডার: আমিই বাংলাদেশ’ সিনেমা দিয়ে প্রশংসা ভাসছেন তিনি। সাফল্যের পেছনে ছিল তার অনেক চেষ্টা ও শ্রম।

পরিবার থেকে ক্যামেরার কাজ নিয়ে বারণের পর কিছুটা দোটানায় পড়ে যান ফরহাদ। এমনও হয়েছে, অনেক সময় আর্থিক সংকটে থেকেও পরিবারের কাউকে সেগুলো বুঝতে দেননি। কাজের জন্য ঘুরলেও সবাইকে বুঝিয়েছেন ভালো আছেন। কিন্তু এই সংকট ক্রমেই বাড়তে থাকে।

---

কারণ, দেশের প্রেক্ষাপটে ক্যামেরা সহকারীদের তেমন অর্থ দিতনা। কাজ শেখার জন্য মুখ বুজে সব সহ্য করেছেন। শুরুর সেই সংগ্রাম প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ফরহাদ বলেন, এখনো নিজেকে সফল মনে করেন না তিনি। তবে কাজের জন্য ছুটতে চান। আরও বড় কাজের প্রতীক্ষায় থাকেন। এটাও তাঁর কাছে অন্য রকম সংগ্রাম। ফরহাদ বলেন, ‘দেশ-বিদেশে এখন অনেক বড় বড় বাজেটের কাজ হচ্ছে। তাদের অনেক সুযোগ-সুবিধা। কিন্তু আমাদের প্রেক্ষাপটে বড় স্কেলের কাজের সুযোগ কম। ভালোভাবে একটি প্রি-প্রোডাকশন শেষ করতে পারি না। বাণিজ্যিক সিনেমায় সেই চ্যালেঞ্জ অনেক বেশি। সেই চ্যালেঞ্জ আমি বারবার নিতে চাই।’

পেশা হিসেবে সিনেমাটোগ্রাফি গুরুত্বপূর্ণ। একজন নির্মাতা, অভিনয়শিল্পীদের চেয়ে সব সময় বেশি সজাগ থাকতে হয় তাঁকে। কিন্তু আমাদের দেশে সেই অর্থে সম্মানটা অনেক সময়ই উপেক্ষিত। ফরহাদ বলেন, ‘একজন পরিচালক, অভিনয়শিল্পী ভালো করলে তাঁকে যে সম্মান দেওয়া হয়, তাঁকে নিয়ে লেখালেখি করা হয় কিন্তু আমাদের মতো সিনেমাটোগ্রাফারদের গল্প আড়ালেই থেকে যায়।

কাজের সম্মান কম, অনেক সময় পারিশ্রমিক ঠিকমতো পাওয়া যায় না। পেশাদারত্ব তৈরি হলে এই সেক্টরে অনেক সম্ভাবনার জায়গা রয়েছে। এখন আমাকে আর খেয়েপরে বেঁচে থাকার চেষ্টা করতে হয় না। কাজের অভাব নেই। এই জন্য ধৈর্য ধরতে হয়েছে।

পরিবার, বন্ধুবান্ধব কেউ পাশে ছিলেন না, নিজের যোগ্যতায় তিনি এখন সফল হয়েছেন।

ঈদে মুক্তি পাওয়া সিনেমাগুলোর মধ্যে আলোচিত হয়েছে ‘লিডার: আমিই বাংলাদেশ’, ওটিটিতে মুক্তির পর প্রশংসিত হয়েছে দুটি সিরিজ’ ‘মাইশেলফ অ্যালেন স্বপন’ ও ‘মহানগর ২’। গল্প, অভিনয়, নির্মাণের পাশাপাশি সিনেমা ও সিরিজ দুটির চিত্রগ্রহণও আলোচিত হয়েছে। তিনটি কাজের চিত্রগ্রাহকদের সংগ্রাম ও এগিয়ে চলার গল্প।

‘ক্যাসিনো’ সিনেমা দিয়ে শুরু ফরহাদের সিনেমাপাড়ায় যাত্রা। পরে ‘তালাশ’, ‘অন্তরাত্মা’, ‘মুখোশ’, ‘প্রেমপুরাণ’সহ বেশ কিছু কাজ করেছেন। এসব কাজের জন্য কখনো টানা ৭২ ঘণ্টা পরিশ্রম করতে হয়েছে, কখনো টানা ৫০ দিন পরিবারের বাইরে থাকতে হয়েছে তাঁকে। ‘যখন কোনো দর্শক আমার কাজ নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করেন, কাজের প্রশংসা করেন, তখন কোনো কষ্টই মনে থাকে না। তখন দায়বদ্ধতা বাড়ে। মনে হয়, আরও ভালো কাজ করতে হবে, দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে হবে। এটা আমাকে দিয়েও সম্ভব। কারণ, একটি লোকেশনকে সবাই যেভাবে দেখেন, সেভাবে আমি দেখি না।

আমাকে শৈল্পিক দিক থেকে দেখতে হয়,’ বলেন ফরহাদ। কেউ পাশে না থাকলেও তার মেধা আর শ্রমকে কাজে লাগিয়ে তিনি এখন সফল।

 

বাংলাদেশ সময়: ০:২৯:৩২   ১৯৫ বার পঠিত  




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

জেলা’র আরও খবর


নিষেধাজ্ঞা শুরু, ৭৯ হাজার জেলে চাল পাচ্ছেন না
ভোলায় বাংলাদেশ ইতিহাস সম্মিলনী বরিশাল বিভাগীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত
শোভা ছড়াচ্ছে স্বর্ণালী আমের মুকুল
অগ্নিকান্ডে নিহত ভোলার ২ পরিবারের পরিবারে শোকের মাতম
চর কচুয়াখালীতে যাতায়াতে ভোগান্তি
শোভা ছড়াচ্ছে স্বর্ণালী আমের মুকুল
মেঘনায় ইলিশ ধরার দায়ে আটক ৯ জেলে, ৬ জনের কারাদন্ড
ভোলায় অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ঠাকুর অনুকূল চন্দ্রের ১৩৬তম আবির্ভাব বার্ষিকী, পুর্ণ্যার্থীদের ঢল
ভোলায় জাটকা শিকারের মহোৎসব, ইলিশের উৎপাদন নিয়ে শঙ্কা
ভোলায় ৬টি অবৈধ ডায়াগনস্টিক ও হাসপাতাল সিলগালা

আর্কাইভ