মেঘনায় জাহাজডুবি ॥ নৌযান উদ্ধারের সক্ষমতা বাড়াতে হবে

প্রচ্ছদ » সম্পাদকীয় » মেঘনায় জাহাজডুবি ॥ নৌযান উদ্ধারের সক্ষমতা বাড়াতে হবে
শুক্রবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২২



ভোলায় মেঘনা নদীতে সাড়ে ১১ লাখ লিটার জ্বালানি তেল নিয়ে ডুবে যাওয়া জাহাজ সোমবারও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, জাহাজের ট্যাংকারে থাকা বেশিরভাগ তেল নদীতে ভেসে গেছে। এতে সেখানকার জীববৈচিত্র্যে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ ধরনের জাহাজ দুর্ঘটনার কবলে পড়লে আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি পরিবেশ ও জীববৈচির্ত্যের ওপরও বড় প্রভাব পড়ে। ধারণা করা হচ্ছে, ঘন কুয়াশার কারণেই এ জাহাজটির সঙ্গে অপর একটি জাহাজের ধাক্কা লেগেছিল। কাজেই জাহাজ চলাচলের সময় সংশ্লিষ্টদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা দরকার। জ্বালানি তেল মেঘনার পানিতে মেশার ফলে সেখানকার সব জলজ প্রাণী ক্ষতির শিকার হয়েছে। ভোলার ইলিশ বিচরণক্ষেত্র হিসাবে পরিচিত মেঘনা নদীর শাহবাজপুর চ্যানেলের মাছের ক্ষতির আশঙ্কাও করা হচ্ছে। বিআইডব্লিউটিএ’র একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ডুবে যাওয়া জাহাজটি উদ্ধারের সক্ষমতা নেই এ সংস্থার উদ্ধারকারী জাহাজের। সরকারি এ সংস্থার সার্বিক সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া না হলে আগামীতেও এ ধরনের দুর্ঘটনার পর পরিবেশের বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে। এমন দুর্ঘটনার পর তেল যাতে দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে না পারে সেজন্য কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হয়। কাজেই তেলবাহী নৌযান পরিচালনার সঙ্গে যারা যুক্ত, তাদের এ বিষয়েও প্রশিক্ষণ থাকা দরকার। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের পরিস্থিতিতে দূষণ নিয়ন্ত্রণে এমন কোনো রাসায়নিক ব্যবহার করা উচিত নয়, যা পরিবেশ ও জীববৈচির্ত্যের ওপর বেশি প্রভাব ফেলে। জলে বা স্থলে এ ধরনের কোনো দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন কৌতূহলী হয়ে দুর্ঘটনাস্থলে ভিড় করে, যা বিপজ্জনক। আবার
অনেকে তেল সংগ্রহ করার চেষ্টা করে, এটাও বড় বিপজ্জনক। সম্প্রতি সিয়েরা লিওনে এক দুর্ঘটনার পর ট্যাংকার থেকে চুইয়ে পড়া তেল সংগ্রহ করতে গিয়ে অনেকেই দগ্ধ হয়েছেন।
দেশের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সুরক্ষায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে। অতিরিক্ত লোভের বশবর্তী হয়ে যারা নদীতে বর্জ্য ফেলাসহ পরিবেশের ক্ষতি করে, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। পরিবেশ সুরক্ষায় যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া না হলে দেশের টেকসই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকবে কিনা, তা নিয়ে সন্দেহ থেকেই যায়। পরিবেশ দূষণমুক্ত রাখতে না পারলে সামনে বড় ধরনের বিপর্যয় আসন্ন। কারণ, দূষণ কোনো একটি স্তরে সীমাবদ্ধ থাকে না। বিভিন্ন দূষিত পদার্থ নদীর সীমা ছাড়িয়ে ভূগর্ভেও প্রবেশ করে থাকে। দেশে পরিবেশ দূষণমুক্ত রাখার পদক্ষেপ নেওয়া না হলে দূষিত পদার্থ খাদ্যচক্রে মিশে আমাদের শরীরে প্রবেশ করতে পারে, যা সুস্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ।

বাংলাদেশ সময়: ১৭:০১:৪৪   ১৫৩ বার পঠিত  




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

সম্পাদকীয়’র আরও খবর


বাজারে কারসাজি
নৌ দুর্ঘটনা রোধে আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করুন
চিকিৎসক ধর্মঘট: রোগীদের জিম্মি করে কর্মসূচি অনৈতিক
নৌযানে অগ্নিদুর্ঘটনা রোধে পদক্ষেপ নিন
ফিটনেসহীন নৌযান: ভোলা নৌপথে দ্রুত ব্যবস্থা নিন
চরফ্যাশনের ঢালচর বনের ঢাল কারা?
বাজারে ভোক্তাদের নাভিশ্বাস : সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর অস্তিত্ব দৃশ্যমান হচ্ছে না
দক্ষিণাঞ্চলের নৌরুটে যাত্রী হ্রাস
ভোলার মেঘনায় জাহাজডুবি ও বিআইডব্লিউটিএ’র সক্ষমতা
মেঘনায় জাহাজডুবি ॥ নৌযান উদ্ধারের সক্ষমতা বাড়াতে হবে

আর্কাইভ