বাংলাবাজারে অবঃ সেনা সার্জেন্ট ও স্ত্রীকে ঘরের ভেতরে রেখে কাটাতারের বেড়া

স্টাফ রিপোর্টার ॥
ভোলায় জেলা সদরের  বাংলাবাজারে সার্জেন্ট কর্টেজে বাড়িতে রোববার ভোর রাতে দখলের নামে সন্ত্রাসী তান্ডব চালায় সেন্টু মিজির ৪ ছেলের নেতৃত্বে অর্ধ শথাধিক ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা।  মালিক অবসর প্রাপ্ত সেনা বাহিনীর সার্জেন্ট শাহেআলম (৬৭) ও তার স্ত্রী  মাহাবুবা বেগম জহুরা (৬২) বিগত ২৩/২৪ বছরের নিয়মে ঘরে ঘুমাচ্ছিলেন। ভোর রাতে ঘর ভাঙার শব্দে ঘুম থেকে ওঠে বের হতে পারেননি। কাটাতার দিয়ে ঘরটি ঘিরে রাখা হয়। অপর দুটি ঘর ভেঙে মালামাল লুট করে নিয়ে যায় অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা। এমন বর্বরতার অভিযোগ ওঠে আবুয়াল হোসেন সেন্টু মিজি ও তার ৪ ছেলের নেতৃত্বে ভাড়াটে সন্ত্রাসী বাহিনীর বিরুদ্ধে। পরে সার্জেন্ট শাহেআলম বের হয়ে আসতে পারলেও মাহাবুবা বেগম ওই ঘরেই বন্দী রয়েছেন। ৯৯৯ নম্বরে ফোন দিয়ে সাহায্য চাইলে এসআই শহীদুল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করেন। ঘটনার সত্যতা থাকলেও তিনি কাটাতারের বেষ্টুনী সরানোর কোন উদ্যোগ নেন নি। ভোলার পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার জানান, তিনি ঘটনা খোজ নিচ্ছেন। অভিযোগ পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান।

---

এলাকার ইউপি চেয়ারম্যান ইফতারুল হাসান স্বপন জানান, ২৩ বছর আগে আবুয়াল হোসেন সেন্টু মিজি ১০ শতাংশ জমি শাহেআলমের কাছে বিক্রি করেন। ওই জমিতেই ঘর তুলে বসবাস করছেন শাহেআলম ও তার সন্তানরা। বর্তমানে জমির মূল্য বেড়ে যাওয়ায় সেন্টু মিজির ছেলেরা দাবি করেন, তার বাবা যে জমি বিক্রি করে ছিলেন, তা অন্য দাগে ও অন্য জায়গায়। স্থানীয় সালিশে সেন্টু মিজির ছেলেদের দাবি গ্রহণযোগ্য হয় নি। হটাৎ করে ভাড়াটে সন্ত্রাসী নিয়ে ফের ওই বাড়ি দখল নিতে গেছে সেন্টুর ছেলেরা। এমন অভিযোগ তিনি পেয়েছেন বলেও জানান। ভোলা থানার ওসি এনায়েত হোসেন জানান, এটি জঘন্য কাজ। অভিযোগ পেলে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবেন। সেন্টু মিজির ছেলে মনজুর মিজি জানান, তারা ৪ ভাই ঢাকায় থাকেন। তার বাবা যে জমি বিক্রি করেছেন। ওই জমি এখানে নয়। তারা তাদের পৈত্তিক জমি থেকে দখলদারদের উৎখাত করতে কাটা তারের বেড়া দিয়েছেন বলে দাবি করেন। শাহেআলমের ছেলে কলেজ শিক্ষক শাখাওয়াত হোসেন শামিম জানান, তারা নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন। তিনি জানান ২৫ বছর আগে তার বাবা এলাকার আবুয়াল হোসেন সিকদার, তাসলিমা বেগম, আব্দুল অদুদ ও আয়াল হোসেন সেন্টু মিজির কাছ থেকে ৪টি পৃথক দলিলে ৬৬ শতাংশ জমি ক্রয় করে পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করছেন। কিন্তু সম্প্রীতি সেন্টু মিজির ছেলেরা, তার বাবার কাছ থেকে ক্রয়কৃত ১০ শতাংশ জমি ছেড়ে দেয়ার জন্য চাপ সৃস্টি করে। ২০১৫ সালে সেটেল্টমেন্ট অফিসে দাগ ফুল হয়েছে উল্লেখ করে সংশোধনী চাইলে, সেখানের বিচারেও সেন্টুর দাবি মিথ্যা বলে প্রমানিত হয়। এর পরও  রোববার সেন্টু মিঝির চার ছেলের নেতৃত্বে ৫০ /৬০ জনের সন্ত্রাসী বাহিনী হামলা চালায় ও কাটা তারের বেড়া দেয়। তার বৃদ্ধ মা বাবাকে ঘরের ভেতর রেখে কাটাতার দিয়ে ঘিরে রাখে। ওই শিক্ষক ন্যায় বিচার দাবি করে পুলিশ সুপার ও জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন বলেও জানান।


এ বিভাগের আরো খবর...
চরফ্যাশনে ২১ জেলে নিয়ে সাগরে ট্রলার ডুবি ১জন উদ্ধার চরফ্যাশনে ২১ জেলে নিয়ে সাগরে ট্রলার ডুবি ১জন উদ্ধার
চরফ্যাশনের কমিউনিটি হেলথ ক্লিনিকগুলোতে নেই তদারকি ॥ নতুন ভবনে আবর্জনার মধ্যেই স্বাস্থ্য সহকারী দিচ্ছে করোনার ভ্যাকসিন চরফ্যাশনের কমিউনিটি হেলথ ক্লিনিকগুলোতে নেই তদারকি ॥ নতুন ভবনে আবর্জনার মধ্যেই স্বাস্থ্য সহকারী দিচ্ছে করোনার ভ্যাকসিন
মনপুরায় ঘূর্ণীঝড়ে কেড়ে নিল শত শত কৃষকের স্বপ্ন মনপুরায় ঘূর্ণীঝড়ে কেড়ে নিল শত শত কৃষকের স্বপ্ন
নৌযান বন্ধ, সারা দেশের সাথে বিচ্ছিন্ন মনপুরা উপকূল নৌযান বন্ধ, সারা দেশের সাথে বিচ্ছিন্ন মনপুরা উপকূল
তজুমদ্দিনে হতদরিদ্রদের মাঝে ঢেউটিন, নলকূপ ও গৃহনির্মাণ অর্থ বিতরন করেন এমপি শাওন তজুমদ্দিনে হতদরিদ্রদের মাঝে ঢেউটিন, নলকূপ ও গৃহনির্মাণ অর্থ বিতরন করেন এমপি শাওন
ভোলায় সরকারের উন্নয়ন ভাবনা নিয়ে মহিলা সমাবেশ ভোলায় সরকারের উন্নয়ন ভাবনা নিয়ে মহিলা সমাবেশ
লালমোহনে পূর্বশত্রুতার জেরধরে ২জনকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ লালমোহনে পূর্বশত্রুতার জেরধরে ২জনকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ
লালমোহনে কৃষকের মাঝে এসিআই মটরসের পক্ষ থেকে কৃষি যন্ত্র বিতরণ লালমোহনে কৃষকের মাঝে এসিআই মটরসের পক্ষ থেকে কৃষি যন্ত্র বিতরণ
ভোলার রাজাপুরে আদালতের রায় অমান্য করে ঘর নির্মান, বাড়ি দখল, গাছ-মাছ লুট ভোলার রাজাপুরে আদালতের রায় অমান্য করে ঘর নির্মান, বাড়ি দখল, গাছ-মাছ লুট
ভোলা সমিতির উদ্যোগে ১৭ জুটির বর্ণাঢ্য বিবাহ অনুষ্ঠান ভোলা সমিতির উদ্যোগে ১৭ জুটির বর্ণাঢ্য বিবাহ অনুষ্ঠান

বাংলাবাজারে অবঃ সেনা সার্জেন্ট ও স্ত্রীকে ঘরের ভেতরে রেখে কাটাতারের বেড়া
(সংবাদটি ভালো লাগলে কিংবা গুরুত্ত্বপূর্ণ মনে হলে অন্যদের সাথে শেয়ার করুন।)
tweet

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)